ফারহান লাবিব, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বিদেশে চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ শফিকুল ইসলাম শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ যাওয়ার আশায় অপেক্ষা করলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের নামা জামুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শফিকুল ইসলামকে সৌদি আরব পাঠানোর আশ্বাস দেন তার আপন খালু নন্দীগ্রাম উপজেলার বিরপল্লি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শহিদুল ইসলাম। বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে উভয়ের মধ্যে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় একটি মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রায় এক বছর চার মাস আগে শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা অভিযুক্তের হাতে তুলে দেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুরো ঘটনা এখন একটি বিদেশ পাঠানোর প্রতারণা হিসেবে সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগী জানান, টাকা গ্রহণের সময় তিন মাসের মধ্যেই তাকে সৌদি আরব পাঠানোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বিদেশে পাঠানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। কখনও ভিসা প্রক্রিয়ার কথা, কখনও এজেন্সির জটিলতার কথা বলে তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শফিকুল ইসলামের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় যে তিনি বিদেশ পাঠানোর প্রতারণা-এর শিকার হয়েছেন।
পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম কয়েক দফা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এতে ভুক্তভোগী আরও বিপাকে পড়েন। তিনি জানান, বিদেশে যাওয়ার আশায় সুদের ওপর ধার করা অর্থ এখনও পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে পরিবার নিয়ে তিনি মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমানে দেশে বিদেশ পাঠানোর প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ৩১ মে টাকা ফেরতের বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপরই শফিকুল ইসলাম আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে টাকা উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম ও শেরপুর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ও বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাবকে পুঁজি করেই অনেক ক্ষেত্রে বিদেশ পাঠানোর প্রতারণা সংঘটিত হচ্ছে। তাই অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি।
আরোও পড়ুন – বগুড়ায় জিন তাড়ানোর নামে ধর্ষণ, ভণ্ড কবিরাজ গ্রেপ্তার
বগুড়ায় বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাৎ, ভুক্তভোগীর থানায় অভিযোগ
ফারহান লাবিব, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বিদেশে চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ শফিকুল ইসলাম শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ যাওয়ার আশায় অপেক্ষা করলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের নামা জামুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শফিকুল ইসলামকে সৌদি আরব পাঠানোর আশ্বাস দেন তার আপন খালু নন্দীগ্রাম উপজেলার বিরপল্লি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শহিদুল ইসলাম। বিদেশে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে উভয়ের মধ্যে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় একটি মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রায় এক বছর চার মাস আগে শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা অভিযুক্তের হাতে তুলে দেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুরো ঘটনা এখন একটি বিদেশ পাঠানোর প্রতারণা হিসেবে সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগী জানান, টাকা গ্রহণের সময় তিন মাসের মধ্যেই তাকে সৌদি আরব পাঠানোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বিদেশে পাঠানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। কখনও ভিসা প্রক্রিয়ার কথা, কখনও এজেন্সির জটিলতার কথা বলে তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শফিকুল ইসলামের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় যে তিনি বিদেশ পাঠানোর প্রতারণা-এর শিকার হয়েছেন।
পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম কয়েক দফা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এতে ভুক্তভোগী আরও বিপাকে পড়েন। তিনি জানান, বিদেশে যাওয়ার আশায় সুদের ওপর ধার করা অর্থ এখনও পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে পরিবার নিয়ে তিনি মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমানে দেশে বিদেশ পাঠানোর প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ৩১ মে টাকা ফেরতের বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপরই শফিকুল ইসলাম আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে টাকা উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম ও শেরপুর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ও বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাবকে পুঁজি করেই অনেক ক্ষেত্রে বিদেশ পাঠানোর প্রতারণা সংঘটিত হচ্ছে। তাই অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি।
আরোও পড়ুন – বগুড়ায় জিন তাড়ানোর নামে ধর্ষণ, ভণ্ড কবিরাজ গ্রেপ্তার