মহেশপুরে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ভারতীয় সিরাপ জব্দ

সালেকুজ্জামান শামীম, (ঝিনাইদহ) মহেশপুর প্রতিনিধিঃ

মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে আবারও সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় যৌন উত্তেজক ভায়াগ্রা ট্যাবলেট এবং কোডিনযুক্ত মাদক সিরাপ উদ্ধার করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। শনিবার ১৩ জুন ভোর ও দুপুরে পরিচালিত এসব অভিযানে কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব না হলেও উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণ সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাচালান চক্রের ব্যাপক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সীমান্তপথে অবৈধ মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর আনুমানিক ১টার দিকে যাদবপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৫০-এমপি থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পার গোপালপুর গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তার পাশের ধানক্ষেতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নায়েব সুবেদার মো. আবু বক্করের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আসামিবিহীন অবস্থায় ৭৯২ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা এসব ট্যাবলেট নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর আগেই বিজিবির নজরদারির মুখে পড়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পণ্য ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

একই দিনে দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আরও একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৫৯/২-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জীবননগর পাড়ার ঈদগাহের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২৫ বোতল ভারতীয় কোডিন ফসফেট ও ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইডযুক্ত মাদক সিরাপ উদ্ধার করা হয়। নায়েব সুবেদার মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কোনো আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মহেশপুরে মাদক উদ্ধার হওয়া এসব সিরাপ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা মাদকদ্রব্যের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সিরাপ তরুণদের মধ্যে অপব্যবহারের কারণে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাকারবারি চক্রগুলো প্রায়ই নির্জন স্থান, ফসলি জমি ও ঝোপঝাড় ব্যবহার করে মাদক লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তবে বিজিবির নিয়মিত তৎপরতার কারণে তাদের অনেক পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। সাম্প্রতিক মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযান সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক অভিযান বাড়ানো হলে চোরাচালান সিন্ডিকেটের কার্যক্রম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ভারতীয় মাদক সিরাপ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এসব মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে বাহিনী। সর্বশেষ মহেশপুরে মাদক উদ্ধার ঘটনা প্রমাণ করে, সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সক্রিয় ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আরোও পড়ুন – মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ফেনসিডিল ও ভারতীয় আম উদ্ধার

মহেশপুরে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ভারতীয় সিরাপ জব্দ

জুন ১৪, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, (ঝিনাইদহ) মহেশপুর প্রতিনিধিঃ

মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে আবারও সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় যৌন উত্তেজক ভায়াগ্রা ট্যাবলেট এবং কোডিনযুক্ত মাদক সিরাপ উদ্ধার করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)। শনিবার ১৩ জুন ভোর ও দুপুরে পরিচালিত এসব অভিযানে কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব না হলেও উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণ সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাচালান চক্রের ব্যাপক তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সীমান্তপথে অবৈধ মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর আনুমানিক ১টার দিকে যাদবপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৫০-এমপি থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পার গোপালপুর গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তার পাশের ধানক্ষেতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নায়েব সুবেদার মো. আবু বক্করের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আসামিবিহীন অবস্থায় ৭৯২ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা এসব ট্যাবলেট নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর আগেই বিজিবির নজরদারির মুখে পড়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পণ্য ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

একই দিনে দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আরও একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত পিলার ৫৯/২-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জীবননগর পাড়ার ঈদগাহের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২৫ বোতল ভারতীয় কোডিন ফসফেট ও ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইডযুক্ত মাদক সিরাপ উদ্ধার করা হয়। নায়েব সুবেদার মো. শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে কোনো আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মহেশপুরে মাদক উদ্ধার হওয়া এসব সিরাপ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা মাদকদ্রব্যের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সিরাপ তরুণদের মধ্যে অপব্যবহারের কারণে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় চোরাকারবারি চক্রগুলো প্রায়ই নির্জন স্থান, ফসলি জমি ও ঝোপঝাড় ব্যবহার করে মাদক লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তবে বিজিবির নিয়মিত তৎপরতার কারণে তাদের অনেক পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। সাম্প্রতিক মহেশপুরে মাদক উদ্ধার অভিযান সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক অভিযান বাড়ানো হলে চোরাচালান সিন্ডিকেটের কার্যক্রম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ভায়াগ্রা ট্যাবলেট ও ভারতীয় মাদক সিরাপ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এসব মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে বাহিনী। সর্বশেষ মহেশপুরে মাদক উদ্ধার ঘটনা প্রমাণ করে, সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সক্রিয় ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আরোও পড়ুন – মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ফেনসিডিল ও ভারতীয় আম উদ্ধার