শয়নকক্ষে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: নেত্রকোনায় কৃষকের বাঁধা গলা কাটা লাশ উদ্ধার

সাদিয়া আফরিন, স্টাফ রিপোর্টারঃ

নেত্রকোনার সদর উপজেলায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে এক কৃষকের মুখ ও পা বাঁধা জবাই করা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। নিহত ব্যক্তি সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতি ইউনিয়নের নারিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন (৬০)। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন এবং এলাকায় সাধারণ ও নিরিবিলি জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও খাবার শেষে হেলাল উদ্দিন নিজ শয়নকক্ষে ঘুমাতে যান। একই কক্ষে একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা স্থানে তার স্ত্রী বেদেনা আক্তার পৃথক খাটে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে হেলাল উদ্দিনকে মুখ ও পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ভোররাত আনুমানিক চারটার দিকে নিহতের স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে পাশের খাটে স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং লাশ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শয়নকক্ষ ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লাশের সুরতহাল প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘরের ভেতরের পরিস্থিতি, রক্তের চিহ্ন এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট মাঠে কাজ করছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ কারণে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত কি না, কিংবা পারিবারিক বা অন্য কোনো বিরোধ এর পেছনে রয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো নারিয়াপাড়া গ্রামে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শয়নকক্ষে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: নেত্রকোনায় কৃষকের বাঁধা গলা কাটা লাশ উদ্ধার

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫

সাদিয়া আফরিন, স্টাফ রিপোর্টারঃ

নেত্রকোনার সদর উপজেলায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে এক কৃষকের মুখ ও পা বাঁধা জবাই করা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। নিহত ব্যক্তি সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতি ইউনিয়নের নারিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন (৬০)। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন এবং এলাকায় সাধারণ ও নিরিবিলি জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও খাবার শেষে হেলাল উদ্দিন নিজ শয়নকক্ষে ঘুমাতে যান। একই কক্ষে একটি পর্দা দিয়ে আলাদা করা স্থানে তার স্ত্রী বেদেনা আক্তার পৃথক খাটে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে হেলাল উদ্দিনকে মুখ ও পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ভোররাত আনুমানিক চারটার দিকে নিহতের স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে পাশের খাটে স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং লাশ দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শয়নকক্ষ ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লাশের সুরতহাল প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘরের ভেতরের পরিস্থিতি, রক্তের চিহ্ন এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট মাঠে কাজ করছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের স্ত্রীর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ কারণে তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত কি না, কিংবা পারিবারিক বা অন্য কোনো বিরোধ এর পেছনে রয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো নারিয়াপাড়া গ্রামে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।