শাহরিয়ার শাকিল, বড়লেখা প্রতিনিধিঃ
শীতের শুরুতেই তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বড়লেখা উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী। পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, যেখানে বর্তমানে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সাধারণ ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রতিটি শয্যাই রোগীতে পরিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগীকেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শীত শুরুর আগে যেখানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের হার তুলনামূলক কম ছিল, বর্তমানে অধিকাংশ রোগীই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত রোগের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, সর্দি-কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। একইভাবে বয়স্ক রোগীরা শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত জটিলতায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। শীতজনিত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধা না থাকায় জটিল অবস্থার অনেক রোগীকে প্রয়োজনীয় উচ্চতর চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর পরামর্শ দিতে হচ্ছে। এতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলেও রোগীর জীবন রক্ষাই চিকিৎসকদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই এই সময় বিশেষ সতর্কতা জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখা, ভেজা কাপড় পরানো থেকে বিরত থাকা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিলে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
শীতের দাপটে বড়লেখায় বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ, হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়
শাহরিয়ার শাকিল, বড়লেখা প্রতিনিধিঃ
শীতের শুরুতেই তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বড়লেখা উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী। পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, যেখানে বর্তমানে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সাধারণ ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রতিটি শয্যাই রোগীতে পরিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগীকেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শীত শুরুর আগে যেখানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের হার তুলনামূলক কম ছিল, বর্তমানে অধিকাংশ রোগীই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শীতজনিত রোগের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, সর্দি-কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। একইভাবে বয়স্ক রোগীরা শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত জটিলতায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। শীতজনিত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধা না থাকায় জটিল অবস্থার অনেক রোগীকে প্রয়োজনীয় উচ্চতর চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর পরামর্শ দিতে হচ্ছে। এতে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলেও রোগীর জীবন রক্ষাই চিকিৎসকদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই এই সময় বিশেষ সতর্কতা জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে গরম কাপড় ব্যবহার, ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখা, ভেজা কাপড় পরানো থেকে বিরত থাকা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিলে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।