খরবোনা মাদক সংঘাত: অপপ্রচারের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ

খরবোনা মাদক সংঘাত ঘিরে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার খরবোনা এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কারণে হামলার চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং পরিকল্পিত অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাকিল আহমেদ আলী। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খরবোনা মাদক সংঘাত বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন শাকিল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারা শাকিলের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, খরবোনা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে, যার ফলে এলাকার তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এবং স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন। গত শুক্রবার স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়। তবে এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা পরবর্তীতে খরবোনা মাদক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।

শাকিল আহমেদের অভিযোগ অনুযায়ী, এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার তার ছোট ভাই তুষারের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের এই সামাজিক উদ্যোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো রেকর্ড বা মামলা নেই। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং ভিন্নমত দমনে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা খরবোনা মাদক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত পারভেজ বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতে খরবোনা লেক এলাকা থেকে লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে এবং একটি হত্যা মামলায়ও তাদের নাম জড়িত। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি।

এসময় আরও কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, মাদক ব্যবসার কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বেড়ে গেছে। তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে এলাকায় শান্তি ফিরে আসে।

সবশেষে শাকিল আহমেদ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। পাশাপাশি তিনি নিজের ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

আরোও পড়ুন – শ্রীনগরে স্কুলপথে নিখোঁজ কিশোরী, থানায় অপহরণের অভিযোগ

খরবোনা মাদক সংঘাত: অপপ্রচারের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকি

এপ্রিল ৭, ২০২৬

সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ

খরবোনা মাদক সংঘাত ঘিরে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার খরবোনা এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কারণে হামলার চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং পরিকল্পিত অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাকিল আহমেদ আলী। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খরবোনা মাদক সংঘাত বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে ধরেন শাকিল আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারা শাকিলের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, খরবোনা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে, যার ফলে এলাকার তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এবং স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন। গত শুক্রবার স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়। তবে এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা পরবর্তীতে খরবোনা মাদক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।

শাকিল আহমেদের অভিযোগ অনুযায়ী, এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার তার ছোট ভাই তুষারের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের এই সামাজিক উদ্যোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো রেকর্ড বা মামলা নেই। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং ভিন্নমত দমনে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা খরবোনা মাদক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত পারভেজ বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতে খরবোনা লেক এলাকা থেকে লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে এবং একটি হত্যা মামলায়ও তাদের নাম জড়িত। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকে সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জরুরি।

এসময় আরও কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, মাদক ব্যবসার কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বেড়ে গেছে। তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি প্রয়োজন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে এলাকায় শান্তি ফিরে আসে।

সবশেষে শাকিল আহমেদ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। পাশাপাশি তিনি নিজের ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

আরোও পড়ুন – শ্রীনগরে স্কুলপথে নিখোঁজ কিশোরী, থানায় অপহরণের অভিযোগ