কুড়িগ্রামে ভূমিদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে হামলার হুমকি, ২ জন জেলহাজতে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামে ভয়াবহ ভূমিদস্যু তাণ্ডব এর ঘটনায় একটি মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একদল সংঘবদ্ধ দখলদার আদালতের আদেশ অমান্য করে পুনরায় জমি দখল, গাছ কাটা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আদালত ইতোমধ্যে দুই আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেও বাকি আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার (৫ এপ্রিল) আসামিরা আদালতে স্থায়ী জামিন নিতে গেলে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ১ নং আসামি ইউনুস আলী ও ২ নং আসামি আব্দুল বাতেনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই রায়ের পরই এলাকায় নতুন করে ভূমিদস্যু তাণ্ডব শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের সহযোগিতায় এক মাদকাসক্ত যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদির বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায় এবং হত্যার হুমকি দেয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমান ও সাংবাদিক সাইফুর রহমান শামীমের পরিবার দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে তাদের পৈত্রিক জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমির সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র, রেকর্ড এবং খাজনা তাদের নামে রয়েছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী এলাকা থেকে আসা একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এই জমি দখলের চেষ্টা চালায়, যা বর্তমানে বড় ধরনের ভূমিদস্যু তাণ্ডব হিসেবে রূপ নিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ জানুয়ারি ভোররাতে দখলদাররা প্রায় ৫ শতাধিক টিন, কংক্রিটের খুঁটি ও বাঁশ লুট করে নিয়ে যায় এবং গাছ কেটে জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে। জমিতে ১৪৪ ধারা জারি থাকা এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ কিছু মালামাল উদ্ধার করে এবং স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করলেও দখলদাররা তা অস্বীকার করে। নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা পুনরায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে করে এলাকায় আবারও ভূমিদস্যু তাণ্ডব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় সাংবাদিক সাইফুর রহমান শামীম ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে দুই আসামি জেলহাজতে থাকলেও বাকি আসামিরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী সাইফুর রহমান শামীম বলেন, “আমাদের পৈত্রিক জমি দখল করে ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। এখন আদালতের রায়ের পর তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বর্তমানে কুড়িগ্রাম এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

আরোও পড়ুন – প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা প্রতারক আফসারা আফরোজ

কুড়িগ্রামে ভূমিদস্যুদের তাণ্ডব: মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে হামলার হুমকি, ২ জন জেলহাজতে

এপ্রিল ১০, ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামে ভয়াবহ ভূমিদস্যু তাণ্ডব এর ঘটনায় একটি মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একদল সংঘবদ্ধ দখলদার আদালতের আদেশ অমান্য করে পুনরায় জমি দখল, গাছ কাটা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আদালত ইতোমধ্যে দুই আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেও বাকি আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার (৫ এপ্রিল) আসামিরা আদালতে স্থায়ী জামিন নিতে গেলে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ১ নং আসামি ইউনুস আলী ও ২ নং আসামি আব্দুল বাতেনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই রায়ের পরই এলাকায় নতুন করে ভূমিদস্যু তাণ্ডব শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের সহযোগিতায় এক মাদকাসক্ত যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদির বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায় এবং হত্যার হুমকি দেয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমান ও সাংবাদিক সাইফুর রহমান শামীমের পরিবার দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে তাদের পৈত্রিক জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমির সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র, রেকর্ড এবং খাজনা তাদের নামে রয়েছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী এলাকা থেকে আসা একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এই জমি দখলের চেষ্টা চালায়, যা বর্তমানে বড় ধরনের ভূমিদস্যু তাণ্ডব হিসেবে রূপ নিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ জানুয়ারি ভোররাতে দখলদাররা প্রায় ৫ শতাধিক টিন, কংক্রিটের খুঁটি ও বাঁশ লুট করে নিয়ে যায় এবং গাছ কেটে জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে। জমিতে ১৪৪ ধারা জারি থাকা এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ কিছু মালামাল উদ্ধার করে এবং স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করলেও দখলদাররা তা অস্বীকার করে। নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা পুনরায় অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে করে এলাকায় আবারও ভূমিদস্যু তাণ্ডব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় সাংবাদিক সাইফুর রহমান শামীম ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে দুই আসামি জেলহাজতে থাকলেও বাকি আসামিরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী সাইফুর রহমান শামীম বলেন, “আমাদের পৈত্রিক জমি দখল করে ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। এখন আদালতের রায়ের পর তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বর্তমানে কুড়িগ্রাম এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

আরোও পড়ুন – প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা প্রতারক আফসারা আফরোজ