সামাউন সাদমান আশিক
প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণঃ
রাজধানীর আইইবি (IEB) ভবনের মুক্তিযোদ্ধা হলে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সেমিনারে বিশিষ্ট সম্পাদক ও বুদ্ধিজীবী মাহমুদুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লব গণরায় অস্বীকার করা শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমাননার শামিল। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আয়োজিত এই সেমিনারে তিনি বলেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও সংগ্রামের প্রতিফলন হচ্ছে জুলাই বিপ্লব গণরায়, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত এই রায় বাস্তবায়ন করাই বর্তমান সময়ের প্রধান দায়িত্ব।
মাহমুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যারা জুলাই বিপ্লব গণরায় এর আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের বিপ্লবের চেতনা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের রায় মানতে হলে বিনা তর্কে সেটি গ্রহণ করতে হবে, কারণ এটি জনগণের সরাসরি অভিপ্রায়ের প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের কৃত্রিম বিতর্ক সৃষ্টি করে এই ঐতিহাসিক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।
বিগত ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সময়কে ফ্যাসিবাদী ও ছদ্ম-রাজতান্ত্রিক শাসন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। একজন নেতাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি গড়ে তুলে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদই শেষ পর্যন্ত জুলাই বিপ্লব গণরায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ এবং তাদের ইচ্ছার প্রতিফলনই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
তরুণ সমাজের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, এই বিপ্লবে অসংখ্য তরুণ তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে। তিনি বলেন, শহীদদের একমাত্র দাবি ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত হবে। তাই জুলাই বিপ্লব গণরায় বাস্তবায়ন না হলে সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা পাবে না।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক কাঠামো থেকে শুরু করে সাংবিধানিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি মনে করেন, এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বিধা বা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আজকের অবস্থানে আসার পেছনে এই বিপ্লবের অবদান রয়েছে এবং তাই তাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।
বাংলাদেশের তরুণদের ওপর আস্থা রেখে মাহমুদুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চায়, তাহলে তরুণ সমাজই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। সেমিনারে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরোও পড়ুন – মশক নিধন কার্যক্রমে নতুন মিশন: পরিচ্ছন্নতায় জোর দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
জুলাই বিপ্লব গণরায় অস্বীকার শহীদদের অবমাননা: মাহমুদুর রহমান
সামাউন সাদমান আশিক
প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণঃ
রাজধানীর আইইবি (IEB) ভবনের মুক্তিযোদ্ধা হলে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সেমিনারে বিশিষ্ট সম্পাদক ও বুদ্ধিজীবী মাহমুদুর রহমান বলেছেন, জুলাই বিপ্লব গণরায় অস্বীকার করা শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমাননার শামিল। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আয়োজিত এই সেমিনারে তিনি বলেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও সংগ্রামের প্রতিফলন হচ্ছে জুলাই বিপ্লব গণরায়, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত এই রায় বাস্তবায়ন করাই বর্তমান সময়ের প্রধান দায়িত্ব।
মাহমুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যারা জুলাই বিপ্লব গণরায় এর আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের বিপ্লবের চেতনা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের রায় মানতে হলে বিনা তর্কে সেটি গ্রহণ করতে হবে, কারণ এটি জনগণের সরাসরি অভিপ্রায়ের প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের কৃত্রিম বিতর্ক সৃষ্টি করে এই ঐতিহাসিক অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।
বিগত ১৬ বছরের শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সময়কে ফ্যাসিবাদী ও ছদ্ম-রাজতান্ত্রিক শাসন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। একজন নেতাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি গড়ে তুলে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদই শেষ পর্যন্ত জুলাই বিপ্লব গণরায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ এবং তাদের ইচ্ছার প্রতিফলনই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
তরুণ সমাজের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, এই বিপ্লবে অসংখ্য তরুণ তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে। তিনি বলেন, শহীদদের একমাত্র দাবি ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত হবে। তাই জুলাই বিপ্লব গণরায় বাস্তবায়ন না হলে সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা পাবে না।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক কাঠামো থেকে শুরু করে সাংবিধানিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি মনে করেন, এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বিধা বা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আজকের অবস্থানে আসার পেছনে এই বিপ্লবের অবদান রয়েছে এবং তাই তাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।
বাংলাদেশের তরুণদের ওপর আস্থা রেখে মাহমুদুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চায়, তাহলে তরুণ সমাজই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। সেমিনারে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরোও পড়ুন – মশক নিধন কার্যক্রমে নতুন মিশন: পরিচ্ছন্নতায় জোর দিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন