মহেশপুরে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা, শত বছরের সংস্কৃতির মিলনমেলা

সালেকুজ্জামান শামীম, ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর বাজারে শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে অনুষ্ঠিত হলো মহেশপুর চড়ক পূজা ও মেলা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে শুরু হওয়া এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বাংলা ৩রা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই পূজা ও মেলায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও লোকজ সংস্কৃতির সমন্বয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এই মহেশপুর চড়ক পূজা উপলক্ষে পূজা কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। আয়োজনকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। আয়োজকরা জানান, পঞ্জিকা অনুযায়ী বাংলা ৩রা বৈশাখ এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে ২রা বৈশাখ এই পূজার মূল দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী সাধন কুমার ঘোষ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা হয়েছে।

চড়ক পূজার অন্যতম আকর্ষণ ‘বানফোঁড়’ বা চড়ক পাক অনুষ্ঠানে অংশ নেন সন্ন্যাসীরা। মহেশপুর চড়ক পূজা-এর অংশ হিসেবে এবার ৮ জন সন্ন্যাসী তাদের পিঠে লোহার বড়শি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে উঠে দড়ির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ঘূর্ণন করেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই শারীরিক কষ্টসহিষ্ণুতা ও ভক্তির প্রতীকী অনুশীলন দেখতে ভিড় জমায় হাজারো দর্শনার্থী। শত বছরের পুরনো এই প্রথা স্থানীয়দের কাছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

আয়োজকরা জানান, সেন বংশের শাসনামল থেকে এই চড়ক পূজার প্রচলন রয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত আছে। কাশ্মির অঞ্চল থেকে এ পূজার সূচনা হয়ে পরবর্তীতে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে মহেশপুর চড়ক পূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, এটি একটি বৃহৎ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়।

পূজাকে কেন্দ্র করে বসে জমজমাট মেলা, যেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য, খেলনা, মিষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের দোকানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে অংশ নেন এবং দিনব্যাপী উৎসব উপভোগ করেন।

এদিকে, মহেশপুর চড়ক পূজা উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও মহেশপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে চড়ক পাক ও মেলা উপভোগ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আরোও পড়ুন – খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য মাহা সাংগ্রাই উৎসব ও পানিকেলি উদযাপন ১৪৩৩

মহেশপুরে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা, শত বছরের সংস্কৃতির মিলনমেলা

এপ্রিল ১৮, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর বাজারে শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে অনুষ্ঠিত হলো মহেশপুর চড়ক পূজা ও মেলা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে শুরু হওয়া এই আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। বাংলা ৩রা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এই পূজা ও মেলায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও লোকজ সংস্কৃতির সমন্বয়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এই মহেশপুর চড়ক পূজা উপলক্ষে পূজা কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। আয়োজনকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। আয়োজকরা জানান, পঞ্জিকা অনুযায়ী বাংলা ৩রা বৈশাখ এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে ২রা বৈশাখ এই পূজার মূল দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী সাধন কুমার ঘোষ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা হয়েছে।

চড়ক পূজার অন্যতম আকর্ষণ ‘বানফোঁড়’ বা চড়ক পাক অনুষ্ঠানে অংশ নেন সন্ন্যাসীরা। মহেশপুর চড়ক পূজা-এর অংশ হিসেবে এবার ৮ জন সন্ন্যাসী তাদের পিঠে লোহার বড়শি ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে উঠে দড়ির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় ঘূর্ণন করেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই শারীরিক কষ্টসহিষ্ণুতা ও ভক্তির প্রতীকী অনুশীলন দেখতে ভিড় জমায় হাজারো দর্শনার্থী। শত বছরের পুরনো এই প্রথা স্থানীয়দের কাছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

আয়োজকরা জানান, সেন বংশের শাসনামল থেকে এই চড়ক পূজার প্রচলন রয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত আছে। কাশ্মির অঞ্চল থেকে এ পূজার সূচনা হয়ে পরবর্তীতে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে মহেশপুর চড়ক পূজা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, এটি একটি বৃহৎ লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়।

পূজাকে কেন্দ্র করে বসে জমজমাট মেলা, যেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য, খেলনা, মিষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের দোকানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে অংশ নেন এবং দিনব্যাপী উৎসব উপভোগ করেন।

এদিকে, মহেশপুর চড়ক পূজা উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও মহেশপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে চড়ক পাক ও মেলা উপভোগ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আরোও পড়ুন – খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য মাহা সাংগ্রাই উৎসব ও পানিকেলি উদযাপন ১৪৩৩