হামের ভয়াবহতা বাড়ছে: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৮৬০

সামাউন সাদমান আশিক,প্রতিনিধি ঢাকা দক্ষিণঃ

হামের ভয়াবহতা দেশে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সংক্রমণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শিশুদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, গত একদিনে নতুন করে ১৭২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছেন ১ হাজার ২১৫ জন। এর মধ্যে ৮৬০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের ভয়াবহতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭ শিশুর মধ্যে ৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি ৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এদের বেশিরভাগই ছিল অপুষ্টিতে ভোগা এবং টিকাবঞ্চিত শিশু। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে হাম মারাত্মক রূপ নিতে পারে এবং জটিলতা তৈরি করতে পারে।

দেশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর কারণে হামের ভয়াবহতা এখানে বেশি দেখা যাচ্ছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের লক্ষণ বা সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে। এই পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞদের কাছে উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারা বলছেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গত চার দিনে দেশের ৮ বিভাগে মোট ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৮ জন শিশু টিকা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে হামের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

শুধু সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেই এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭২ হাজার ৮৯০ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, শহরাঞ্চলে টিকাদানের হার তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামীণ এলাকায় এখনও সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে সেখানে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি রয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি বা শরীরে দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। পাশাপাশি শিশুকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়মতো টিকা গ্রহণই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আরোও পড়ুন – শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন: হামে আক্রান্ত শিশুদের খোঁজ নিলেন ডা. শফিকুর রহমান

হামের ভয়াবহতা বাড়ছে: আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৮৬০

এপ্রিল ২৪, ২০২৬

সামাউন সাদমান আশিক,প্রতিনিধি ঢাকা দক্ষিণঃ

হামের ভয়াবহতা দেশে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সংক্রমণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শিশুদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, গত একদিনে নতুন করে ১৭২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছেন ১ হাজার ২১৫ জন। এর মধ্যে ৮৬০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের ভয়াবহতা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৭ শিশুর মধ্যে ৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি ৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এদের বেশিরভাগই ছিল অপুষ্টিতে ভোগা এবং টিকাবঞ্চিত শিশু। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে হাম মারাত্মক রূপ নিতে পারে এবং জটিলতা তৈরি করতে পারে।

দেশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যেখানে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর কারণে হামের ভয়াবহতা এখানে বেশি দেখা যাচ্ছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের লক্ষণ বা সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে। এই পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞদের কাছে উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারা বলছেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গত চার দিনে দেশের ৮ বিভাগে মোট ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৮ জন শিশু টিকা পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে হামের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

শুধু সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেই এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭২ হাজার ৮৯০ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, শহরাঞ্চলে টিকাদানের হার তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামীণ এলাকায় এখনও সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে সেখানে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি রয়ে গেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, শিশুদের জ্বর, চোখ লাল হওয়া, কাশি বা শরীরে দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। পাশাপাশি শিশুকে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়মতো টিকা গ্রহণই এই রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আরোও পড়ুন – শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন: হামে আক্রান্ত শিশুদের খোঁজ নিলেন ডা. শফিকুর রহমান