মহেশপুরে কৃষিজমি রক্ষা দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন, কারখানার বর্জ্যে তিন ফসলি জমি হুমকিতে

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সাড়াতলা এলাকায় স্থানীয় কৃষকদের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ বন্ধের দাবিতে তুষার সিরামিকস কারখানার সামনে এই কর্মসূচিতে শতাধিক কৃষক অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে আশপাশের আবাদি জমি, ফসল ও স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে সাড়াতলা, কৃষ্ণচন্দ্রপুর ও পুরন্দরপুর গ্রামের কৃষকরা একত্রিত হয়ে বলেন, এলাকায় বহু বছর ধরে তিন ফসলি জমিতে ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও মৌসুমি ফসল চাষ হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কারখানার বর্জ্য সরাসরি জমিতে গিয়ে পড়ায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে। জমির উর্বরতা আগের তুলনায় কমে গেছে বলেও দাবি করেন কৃষকরা। তারা বলেন, আগে যেখানে বছরে তিনবার চাষ করে লাভবান হওয়া যেত, এখন সেখানে দুইবারও ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে এবং কৃষিজমি রক্ষা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের আরও অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে আশপাশের গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ির পরিবেশও দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্ট রোগীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে দাবি করেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাতাসে ধুলা ও ধোঁয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই চোখ জ্বালা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই শুধু ফসল নয়, জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থেও কৃষিজমি রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে তারা মত দেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মাসুদ রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক সুবুর আলী, ফতেপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শতাধিক কৃষক। বক্তারা বলেন, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো কারখানার পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বক্তারা দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক ব্যবস্থা চালু, সঠিক নিষ্কাশন লাইন স্থাপন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হওয়ায় কৃষিজমি রক্ষা না হলে হাজারো পরিবার ক্ষতির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে তুষার সিরামিকসের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক পল্টু মিয়া দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি তদন্ত করলেই প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।

আরোও পড়ুন – ঝিনাইদহ মহেশপুরে জাতীয় আইন সহায়তা দিবস ২০২৬ উদযাপন, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

মহেশপুরে কৃষিজমি রক্ষা দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন, কারখানার বর্জ্যে তিন ফসলি জমি হুমকিতে

এপ্রিল ৩০, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সাড়াতলা এলাকায় স্থানীয় কৃষকদের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ বন্ধের দাবিতে তুষার সিরামিকস কারখানার সামনে এই কর্মসূচিতে শতাধিক কৃষক অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে আশপাশের আবাদি জমি, ফসল ও স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।

মানববন্ধনে সাড়াতলা, কৃষ্ণচন্দ্রপুর ও পুরন্দরপুর গ্রামের কৃষকরা একত্রিত হয়ে বলেন, এলাকায় বহু বছর ধরে তিন ফসলি জমিতে ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও মৌসুমি ফসল চাষ হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কারখানার বর্জ্য সরাসরি জমিতে গিয়ে পড়ায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে। জমির উর্বরতা আগের তুলনায় কমে গেছে বলেও দাবি করেন কৃষকরা। তারা বলেন, আগে যেখানে বছরে তিনবার চাষ করে লাভবান হওয়া যেত, এখন সেখানে দুইবারও ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে এবং কৃষিজমি রক্ষা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের আরও অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে আশপাশের গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ির পরিবেশও দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্ট রোগীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে দাবি করেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাতাসে ধুলা ও ধোঁয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই চোখ জ্বালা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই শুধু ফসল নয়, জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থেও কৃষিজমি রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে তারা মত দেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মাসুদ রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক সুবুর আলী, ফতেপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শতাধিক কৃষক। বক্তারা বলেন, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো কারখানার পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বক্তারা দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক ব্যবস্থা চালু, সঠিক নিষ্কাশন লাইন স্থাপন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হওয়ায় কৃষিজমি রক্ষা না হলে হাজারো পরিবার ক্ষতির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষকদের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে তুষার সিরামিকসের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক পল্টু মিয়া দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি তদন্ত করলেই প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।

আরোও পড়ুন – ঝিনাইদহ মহেশপুরে জাতীয় আইন সহায়তা দিবস ২০২৬ উদযাপন, র‍্যালি ও আলোচনা সভা