দুর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খনন: রাতে অভিযানে আটক ১, লাখ টাকা জরিমানা

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অবৈধ পুকুর খনন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতের আঁধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সোমবার (৪ মে ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ৫ নং ঝালুকা ইউনিয়নের গৌরিহার পশ্চিমপাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে পুকুর তৈরি করছে, যা পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।

অভিযান পরিচালনা করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নূর তানজু। তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ পুকুর খনন করে মাটি উত্তোলন করে তা কাকড়া গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় দুটি কাকড়া গাড়িকে হাতেনাতে মাটি পরিবহনরত অবস্থায় আটক করা হয়। একই সঙ্গে আশিক নামের এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়, যিনি এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চলাকালে পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন এবং দুটি ব্যাটারি তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এছাড়া জব্দ করা কাকড়া গাড়ি দুটি উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পুকুর খনন নিয়ে এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৫ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ অবৈধ পুকুর খনন প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা নূর তানজু বলেন, “অবৈধ পুকুর খনন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কৃষিজমির উর্বর মাটি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।” তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে কৃষি জমি ধ্বংস হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, অবৈধ পুকুর খননের কারণে ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই তারা এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও অবৈধ পুকুর খনন এবং মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোথাও এ ধরনের কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহী-ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিযান: অপহরণকারী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার

দুর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খনন: রাতে অভিযানে আটক ১, লাখ টাকা জরিমানা

মে ৫, ২০২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অবৈধ পুকুর খনন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতের আঁধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সোমবার (৪ মে ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ৫ নং ঝালুকা ইউনিয়নের গৌরিহার পশ্চিমপাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে পুকুর তৈরি করছে, যা পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।

অভিযান পরিচালনা করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নূর তানজু। তার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ পুকুর খনন করে মাটি উত্তোলন করে তা কাকড়া গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় দুটি কাকড়া গাড়িকে হাতেনাতে মাটি পরিবহনরত অবস্থায় আটক করা হয়। একই সঙ্গে আশিক নামের এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়, যিনি এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চলাকালে পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন এবং দুটি ব্যাটারি তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এছাড়া জব্দ করা কাকড়া গাড়ি দুটি উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পুকুর খনন নিয়ে এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৫ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ অবৈধ পুকুর খনন প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা নূর তানজু বলেন, “অবৈধ পুকুর খনন কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কৃষিজমির উর্বর মাটি রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি।” তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে কৃষি জমি ধ্বংস হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, অবৈধ পুকুর খননের কারণে ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই তারা এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও অবৈধ পুকুর খনন এবং মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোথাও এ ধরনের কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহী-ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিযান: অপহরণকারী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার