অবৈধ পাথর পরিবহনেই ভাঙছে সাতবাঁক ইউপির রাস্তা, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

মিজানুর রহমান (লাভলু), সিলেট:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সাতবাঁক ইউনিয়নে অবৈধ পাথর পরিবহন কার্যক্রমের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দিন দিন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লোভাছড়া পাথর কোয়ারী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে চরিপাড়া ও লোভারমুখ বাজার এলাকায় এনে মজুদ করা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে ট্রাক্টর ও ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে, যার ফলে সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই অবৈধ পাথর পরিবহন বন্ধ না হলে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দইলমাটি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পাকা সড়ক বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। একসময় মসৃণ এই সড়ক এখন বড় বড় গর্ত ও কাদায় ভরে গেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলেও তাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও অবৈধ পাথর পরিবহন বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে গত বছর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুরমা ডাইকও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে ডাইকের মাটি ধসে পড়ছে এবং অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, অবিলম্বে এই অবৈধ পাথর পরিবহন নিয়ন্ত্রণ না করা হলে সরকারি এই প্রকল্পও নষ্ট হয়ে যাবে।

সাতবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাইয়িব শামীম জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি একাধিকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করেছেন। তার দাবি, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। তবে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে অবৈধ পাথর পরিবহন কার্যক্রম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, এই কাজে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। তাদের মধ্যে চরিপাড়া ও আশপাশ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মিতভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে তারা প্রতিদিন ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে পাথর সরবরাহ করছে। এতে করে শুধু রাস্তা নয়, পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, গ্রামীণ সড়কগুলো রক্ষা করতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে অবৈধ পাথর পরিবহন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে এবং জনজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

আরোও পড়ুন – মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ: ৪০ বছর ধরে বঞ্চিত বৃদ্ধা ও সন্তানদের আর্তনাদ

অবৈধ পাথর পরিবহনেই ভাঙছে সাতবাঁক ইউপির রাস্তা, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

মে ৬, ২০২৬

মিজানুর রহমান (লাভলু), সিলেট:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সাতবাঁক ইউনিয়নে অবৈধ পাথর পরিবহন কার্যক্রমের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দিন দিন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লোভাছড়া পাথর কোয়ারী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে চরিপাড়া ও লোভারমুখ বাজার এলাকায় এনে মজুদ করা হচ্ছে। এরপর সেখান থেকে ট্রাক্টর ও ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে, যার ফলে সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই অবৈধ পাথর পরিবহন বন্ধ না হলে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দইলমাটি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পাকা সড়ক বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। একসময় মসৃণ এই সড়ক এখন বড় বড় গর্ত ও কাদায় ভরে গেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলেও তাদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও অবৈধ পাথর পরিবহন বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে গত বছর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুরমা ডাইকও এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে ডাইকের মাটি ধসে পড়ছে এবং অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, অবিলম্বে এই অবৈধ পাথর পরিবহন নিয়ন্ত্রণ না করা হলে সরকারি এই প্রকল্পও নষ্ট হয়ে যাবে।

সাতবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাইয়িব শামীম জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি একাধিকবার উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করেছেন। তার দাবি, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। তবে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে অবৈধ পাথর পরিবহন কার্যক্রম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, এই কাজে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। তাদের মধ্যে চরিপাড়া ও আশপাশ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মিতভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে তারা প্রতিদিন ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে পাথর সরবরাহ করছে। এতে করে শুধু রাস্তা নয়, পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, গ্রামীণ সড়কগুলো রক্ষা করতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে অবৈধ পাথর পরিবহন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে এবং জনজীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

আরোও পড়ুন – মোড়েলগঞ্জ সম্পত্তি বিরোধ: ৪০ বছর ধরে বঞ্চিত বৃদ্ধা ও সন্তানদের আর্তনাদ