মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান (রংপুর)
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে হাসপাতালে নথি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার (৯ মে) দুপুরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের স্টোর রুম থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই কর্মচারীকে আটক করার পর তাদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে ঘিরে হাসপাতালজুড়ে সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মাঝেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, সদ্য বদলি হওয়া স্টোর কিপার মমিনুল ইসলাম এবং বর্তমান স্টোর কিপার মারজান আলি হাসপাতালের স্টোর রুম থেকে কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই নথিগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাগজপত্র ও স্টোর সংক্রান্ত তথ্য ছিল, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি দুই কর্মচারীকে ঘিরে ফেলেন এবং একপর্যায়ে তাদের মারধর করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের কিছু কর্মচারী এগিয়ে আসেন। এ সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় এবং রোগীদের চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। অনেকেই মনে করছেন, হাসপাতালে নথি চুরির অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন, কারণ সরকারি হাসপাতালের নথিপত্র হারিয়ে গেলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ঘটনার পর হাসপাতালের বিভিন্ন দপ্তরে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, স্টোর রুমের নথিপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো লিখিত বক্তব্য দেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্টোর রুমের রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এমন অভিযোগ দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা বলছেন, হাসপাতালে নথি চুরির মতো ঘটনা সাধারণ মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনার বিচার দাবি করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন বলেন, এমন ঘটনায় হাসপাতালের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। যদি সত্যিই কোনো অনিয়ম ঘটে থাকে, তাহলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা উচিত। একই সঙ্গে মারধরের ঘটনাও আইনের আওতায় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বিভাগীয় তদন্ত কমিটিও গঠন করা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও পুরো ঘটনায় কুড়িগ্রামজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নথি সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরোও পড়ুন – উখিয়ায় মদ উদ্ধার: শীলখালী চেকপোস্টে ৪৪ বোতলসহ আটক ১
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নথি চুরির অভিযোগে দুই কর্মচারী আটক
মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান (রংপুর)
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে হাসপাতালে নথি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার (৯ মে) দুপুরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের স্টোর রুম থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই কর্মচারীকে আটক করার পর তাদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে ঘিরে হাসপাতালজুড়ে সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায় এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মাঝেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, সদ্য বদলি হওয়া স্টোর কিপার মমিনুল ইসলাম এবং বর্তমান স্টোর কিপার মারজান আলি হাসপাতালের স্টোর রুম থেকে কিছু প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই নথিগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাগজপত্র ও স্টোর সংক্রান্ত তথ্য ছিল, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি দুই কর্মচারীকে ঘিরে ফেলেন এবং একপর্যায়ে তাদের মারধর করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের কিছু কর্মচারী এগিয়ে আসেন। এ সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় এবং রোগীদের চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। অনেকেই মনে করছেন, হাসপাতালে নথি চুরির অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন, কারণ সরকারি হাসপাতালের নথিপত্র হারিয়ে গেলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ঘটনার পর হাসপাতালের বিভিন্ন দপ্তরে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, স্টোর রুমের নথিপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো লিখিত বক্তব্য দেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্টোর রুমের রেকর্ড যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এমন অভিযোগ দ্রুত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা বলছেন, হাসপাতালে নথি চুরির মতো ঘটনা সাধারণ মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনার বিচার দাবি করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর স্বজন বলেন, এমন ঘটনায় হাসপাতালের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। যদি সত্যিই কোনো অনিয়ম ঘটে থাকে, তাহলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা উচিত। একই সঙ্গে মারধরের ঘটনাও আইনের আওতায় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে বিভাগীয় তদন্ত কমিটিও গঠন করা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও পুরো ঘটনায় কুড়িগ্রামজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নথি সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরোও পড়ুন – উখিয়ায় মদ উদ্ধার: শীলখালী চেকপোস্টে ৪৪ বোতলসহ আটক ১