সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এসবিকে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে উপজেলার খালিশপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত হওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদ–এর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ এলাকায় নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে উপজেলার খালিশপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় ওই গৃহবধূ একা অবস্থান করছিলেন। এ সময় পানি পান করার কথা বলে ঘরে প্রবেশ করেন অভিযুক্ত সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ। পরে তিনি ওই নারীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের কয়েকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উপস্থিত এক সাক্ষীর নামে প্রায় ২ লাখ টাকার অগ্রিম ব্যাংক চেকও দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গোপন না রেখে আইনের আশ্রয় নেন ভুক্তভোগী নারী। এ ঘটনার পর থেকেই আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী নারী স্থানীয়ভাবে সাবেক নারী ইউপি সদস্য হিসেবেও পরিচিত। শনিবার সকালে তিনি মহেশপুর থানায় উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় অনেকেই প্রথমে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। বর্তমানে আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদকে ঘিরে মহেশপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালাচ্ছে এবং অপরাধের সঙ্গে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেই আইনের বাইরে থাকবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এদিকে আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদ গ্রেফতারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নারী নির্যাতনের অভিযোগে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তারা মনে করছেন, ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অভিযোগ যাতে চাপা না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। এলাকাবাসীর অনেকে বলছেন, এমন ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, একটি আলোচিত মামলার বিচার প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে সমাজে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
আরোও পড়ুন – সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ নেতা মেহের আলী মেম্বারের খুঁটির জোর কোথায়!
মহেশপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদ গ্রেফতার
সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এসবিকে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে উপজেলার খালিশপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত হওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদ–এর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ এলাকায় নতুন করে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে উপজেলার খালিশপুর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় ওই গৃহবধূ একা অবস্থান করছিলেন। এ সময় পানি পান করার কথা বলে ঘরে প্রবেশ করেন অভিযুক্ত সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ। পরে তিনি ওই নারীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের কয়েকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উপস্থিত এক সাক্ষীর নামে প্রায় ২ লাখ টাকার অগ্রিম ব্যাংক চেকও দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গোপন না রেখে আইনের আশ্রয় নেন ভুক্তভোগী নারী। এ ঘটনার পর থেকেই আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী নারী স্থানীয়ভাবে সাবেক নারী ইউপি সদস্য হিসেবেও পরিচিত। শনিবার সকালে তিনি মহেশপুর থানায় উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় অনেকেই প্রথমে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিলেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। বর্তমানে আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদকে ঘিরে মহেশপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চালাচ্ছে এবং অপরাধের সঙ্গে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হলেই আইনের বাইরে থাকবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এদিকে আ.লীগ সভাপতি সাজ্জাদ গ্রেফতারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নারী নির্যাতনের অভিযোগে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তারা মনে করছেন, ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অভিযোগ যাতে চাপা না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। এলাকাবাসীর অনেকে বলছেন, এমন ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, একটি আলোচিত মামলার বিচার প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে সমাজে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
আরোও পড়ুন – সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ নেতা মেহের আলী মেম্বারের খুঁটির জোর কোথায়!