সাপাহারে শিক্ষা বরাদ্দ: অধ্যক্ষ মাহবুব আলমের প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ টাকা দিলেন এমপি মোস্তাফিজুর

হারুনুর রশিদ, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে উন্নয়ন ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। সাপাহারের আল হেলাল ইসলামী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩ লাখ টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ ঘোষণা করে তিনি স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলমের প্রতিষ্ঠানে এ বরাদ্দ দেওয়াকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। “মাহবুব আলমের শিক্ষা বরাদ্দ” বিষয়টি এখন সাপাহারজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) সকাল থেকে সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। পরে বেলা ১১টার দিকে তিনি আল হেলাল ইসলামী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাকে স্বাগত জানান। এসময় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থা, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং চলমান শিক্ষা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শন শেষে কলেজের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ ঘোষণা দেন এমপি। স্থানীয়দের মতে, “মাহবুব আলমের শিক্ষা বরাদ্দ” শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি রাজনৈতিক সহনশীলতারও বড় উদাহরণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন আল হেলাল ইসলামী একাডেমি অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বিজয়ী হলেও পরবর্তীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে শিক্ষার উন্নয়নে এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দেবে। “মাহবুব আলমের শিক্ষা বরাদ্দ” নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশংসা করছেন অনেকে।

সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো দলের সম্পদ নয়, এটি এলাকার মানুষের সম্পদ। শিক্ষার্থীদের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রয়োজন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু শিক্ষার প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে এলাকার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তার এমন বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, ছাদ মেরামত এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজন ছিল। এমপির এ বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হবে। কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করায় তারা আনন্দিত। এলাকাবাসীর মতে, “মাহবুব আলমের শিক্ষা বরাদ্দ” ভবিষ্যতে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদুল ইসলাম, সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু)সহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা শিক্ষা উন্নয়নে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা কমে গেলেও সাপাহারের এই ঘটনা ব্যতিক্রম উদাহরণ হয়ে থাকবে। উন্নয়ন ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক রাজনীতির যে বার্তা এমপি মোস্তাফিজুর রহমান দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর মধ্যে আরও সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে বলেও মনে করছেন তারা।

আরোও পড়ুন- গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

সাপাহারে শিক্ষা বরাদ্দ: অধ্যক্ষ মাহবুব আলমের প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ টাকা দিলেন এমপি মোস্তাফিজুর

মে ১০, ২০২৬

হারুনুর রশিদ, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে উন্নয়ন ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। সাপাহারের আল হেলাল ইসলামী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩ লাখ টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ ঘোষণা করে তিনি স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলমের প্রতিষ্ঠানে এ বরাদ্দ দেওয়াকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। “মাহবুব আলমের শিক্ষা বরাদ্দ” বিষয়টি এখন সাপাহারজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) সকাল থেকে সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। পরে বেলা ১১টার দিকে তিনি আল হেলাল ইসলামী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজে পৌঁছালে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাকে স্বাগত জানান। এসময় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থা, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং চলমান শিক্ষা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শন শেষে কলেজের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ৩ লাখ টাকার বরাদ্দ ঘোষণা দেন এমপি। স্থানীয়দের মতে, “মাহবুব আলমের শিক্ষা বরাদ্দ” শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি রাজনৈতিক সহনশীলতারও বড় উদাহরণ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন আল হেলাল ইসলামী একাডেমি অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বিজয়ী হলেও পরবর্তীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে শিক্ষার উন্নয়নে এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দেবে। “মাহবুব আলমের শিক্ষা বরাদ্দ” নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশংসা করছেন অনেকে।

সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো দলের সম্পদ নয়, এটি এলাকার মানুষের সম্পদ। শিক্ষার্থীদের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রয়োজন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু শিক্ষার প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে এলাকার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তার এমন বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, ছাদ মেরামত এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজন ছিল। এমপির এ বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হবে। কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করায় তারা আনন্দিত। এলাকাবাসীর মতে, “মাহবুব আলমের শিক্ষা বরাদ্দ” ভবিষ্যতে অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হতে পারে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদুল ইসলাম, সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু)সহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা শিক্ষা উন্নয়নে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা কমে গেলেও সাপাহারের এই ঘটনা ব্যতিক্রম উদাহরণ হয়ে থাকবে। উন্নয়ন ও শিক্ষাকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক রাজনীতির যে বার্তা এমপি মোস্তাফিজুর রহমান দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর মধ্যে আরও সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে বলেও মনে করছেন তারা।

আরোও পড়ুন- গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক