মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, রংপুরঃ
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের পশুর হাটগুলোতে এখন জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। জেলার ছোট-বড় খামারগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা। গরু-ছাগলের পরিচর্যা, প্রাকৃতিক খাবার সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দিনরাত কাজ করছেন তারা। এবার জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯টি গবাদিপশু। পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে পশুর হাট মেডিক্যাল টিম। এতে খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যেও বাড়ছে আস্থা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। জেলার বিভিন্ন খামারে দেশীয় জাতের গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান ও ব্রাহামা জাতের গরুও লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারিরা পশুর খাদ্য হিসেবে সবুজ ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি, খৈল, খড় ও ধানের কুঁড়া ব্যবহার করছেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শে অধিকাংশ খামারেই এখন প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অতিরিক্ত গরম ও মৌসুমি রোগবালাই থেকে পশুকে সুরক্ষা দিতে জেলার প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে জেলায় ১৫টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। এসব হাটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে পশুর হাট মেডিক্যাল টিম। অসুস্থ পশু শনাক্তকরণ, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, টিকা প্রদান এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কাজ করছেন ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা। হাটে আসা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় ক্রেতারাও স্বস্তিতে পশু কিনতে পারছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষতিকর স্টেরয়েড, হরমোন কিংবা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণ ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলায় গঠন করা হয়েছে একাধিক তদারকি টিম। নিয়মিত খামার পরিদর্শনের পাশাপাশি খামারিদের সচেতন করতে সভা, পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণও চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কোরবানির পশু নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
যাত্রাপুর পশুর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি আজিজার মোল্লা বলেন, “এবার হাটে ক্রেতার উপস্থিতি অনেক ভালো। মানুষ এখন সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে পালন করা পশু খুঁজছেন। হাটে চিকিৎসক টিম থাকায় আমাদেরও সুবিধা হচ্ছে। কোনো পশুর সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, খামার থেকেই অনেকে আগাম পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ঘোগাদহ এলাকার খামারি মাইদুল ইসলাম বলেন, “সন্তানের মতো যত্ন করে গরু পালন করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করিনি। প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই গরু বড় করেছি। এখন বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন, যা আমাদের জন্য বড় সহায়তা।” তিনি বলেন, এবার খামারিদের মধ্যে সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, “কোরবানির পশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে জেলার প্রতিটি পশুর হাটে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। খামারিদের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পশুর যেকোনো রোগবালাইয়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবার কুড়িগ্রামে পর্যাপ্ত কোরবানির পশুর সরবরাহ থাকায় বাজার স্থিতিশীল থাকবে। একই সঙ্গে পশুর হাট মেডিক্যাল টিম কার্যক্রমের কারণে সুস্থ ও নিরাপদ পশু কেনাবেচায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে জেলার হাজারো খামারি ও প্রান্তিক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
আরোও পড়ুন – ঈদে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, কোটি টাকার মাদক ও ভারতীয় পণ্য জব্দ
কুড়িগ্রামে পশুর হাটে মেডিক্যাল টিম, সুস্থ কোরবানির পশু নিশ্চিতে তৎপর প্রাণিসম্পদ বিভাগ
মোঃ আলমগীর হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো চিফ, রংপুরঃ
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের পশুর হাটগুলোতে এখন জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। জেলার ছোট-বড় খামারগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা। গরু-ছাগলের পরিচর্যা, প্রাকৃতিক খাবার সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দিনরাত কাজ করছেন তারা। এবার জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯টি গবাদিপশু। পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে পশুর হাট মেডিক্যাল টিম। এতে খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যেও বাড়ছে আস্থা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। জেলার বিভিন্ন খামারে দেশীয় জাতের গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান ও ব্রাহামা জাতের গরুও লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারিরা পশুর খাদ্য হিসেবে সবুজ ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি, খৈল, খড় ও ধানের কুঁড়া ব্যবহার করছেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের পরামর্শে অধিকাংশ খামারেই এখন প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অতিরিক্ত গরম ও মৌসুমি রোগবালাই থেকে পশুকে সুরক্ষা দিতে জেলার প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে জেলায় ১৫টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। এসব হাটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে পশুর হাট মেডিক্যাল টিম। অসুস্থ পশু শনাক্তকরণ, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, টিকা প্রদান এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কাজ করছেন ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা। হাটে আসা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় ক্রেতারাও স্বস্তিতে পশু কিনতে পারছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষতিকর স্টেরয়েড, হরমোন কিংবা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণ ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলায় গঠন করা হয়েছে একাধিক তদারকি টিম। নিয়মিত খামার পরিদর্শনের পাশাপাশি খামারিদের সচেতন করতে সভা, পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণও চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কোরবানির পশু নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
যাত্রাপুর পশুর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি আজিজার মোল্লা বলেন, “এবার হাটে ক্রেতার উপস্থিতি অনেক ভালো। মানুষ এখন সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে পালন করা পশু খুঁজছেন। হাটে চিকিৎসক টিম থাকায় আমাদেরও সুবিধা হচ্ছে। কোনো পশুর সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, খামার থেকেই অনেকে আগাম পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ঘোগাদহ এলাকার খামারি মাইদুল ইসলাম বলেন, “সন্তানের মতো যত্ন করে গরু পালন করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করিনি। প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই গরু বড় করেছি। এখন বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন, যা আমাদের জন্য বড় সহায়তা।” তিনি বলেন, এবার খামারিদের মধ্যে সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, “কোরবানির পশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে জেলার প্রতিটি পশুর হাটে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। খামারিদের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পশুর যেকোনো রোগবালাইয়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, নিরাপদ পশু সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবার কুড়িগ্রামে পর্যাপ্ত কোরবানির পশুর সরবরাহ থাকায় বাজার স্থিতিশীল থাকবে। একই সঙ্গে পশুর হাট মেডিক্যাল টিম কার্যক্রমের কারণে সুস্থ ও নিরাপদ পশু কেনাবেচায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে জেলার হাজারো খামারি ও প্রান্তিক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
আরোও পড়ুন – ঈদে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি, কোটি টাকার মাদক ও ভারতীয় পণ্য জব্দ