মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ
রংপুরের কাউনিয়া এলাকায় বেইলী ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। সোমবার (২৫ মে) সকাল দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি কুড়িগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। পথিমধ্যে বেইলী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সড়কের এক পাশে কাত হয়ে পড়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের উদ্ধার করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বাসটি কাত হয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসের দরজা ও জানালা খুলে যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও কাউকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিতে হয়নি বলে জানা গেছে। কাউনিয়া বাস দুর্ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাউনিয়া বেইলী ব্রিজ এলাকার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই সেখানে যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের কিছু অংশ সরু হওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি অতিক্রম করতে গিয়ে চালকদের বাড়তি ঝুঁকি নিতে হয়। এছাড়া বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে কাউনিয়া বাস দুর্ঘটনা খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেন। কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে বিকল্প ব্যবস্থায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। যাত্রীরা পরবর্তীতে অন্য পরিবহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ প্রতিদিন বাড়ছে। অতিরিক্ত যাত্রী ও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতার কারণে অনেক চালক ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এ কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সতর্কতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। বিশেষ করে বেইলী ব্রিজ এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও কাউনিয়া বাস দুর্ঘটনা নতুন করে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের মতে, সময়মতো উদ্ধার তৎপরতা শুরু না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তারা দ্রুত সড়ক সংস্কার, ব্রিজ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পরিবহন চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে জুলাই সনদের প্রচারে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ
কাউনিয়ায় বাস দুর্ঘটনা: বেইলী ব্রিজের কাছে হানিফ পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাত
মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় ব্যুরো চিফ,রংপুরঃ
রংপুরের কাউনিয়া এলাকায় বেইলী ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। সোমবার (২৫ মে) সকাল দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি কুড়িগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। পথিমধ্যে বেইলী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সড়কের এক পাশে কাত হয়ে পড়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের উদ্ধার করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বাসটি কাত হয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসের দরজা ও জানালা খুলে যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়। এ সময় কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও কাউকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিতে হয়নি বলে জানা গেছে। কাউনিয়া বাস দুর্ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাউনিয়া বেইলী ব্রিজ এলাকার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই সেখানে যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের কিছু অংশ সরু হওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি অতিক্রম করতে গিয়ে চালকদের বাড়তি ঝুঁকি নিতে হয়। এছাড়া বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে কাউনিয়া বাস দুর্ঘটনা খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেন। কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে বিকল্প ব্যবস্থায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়। যাত্রীরা পরবর্তীতে অন্য পরিবহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলের সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ প্রতিদিন বাড়ছে। অতিরিক্ত যাত্রী ও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতার কারণে অনেক চালক ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এ কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের সতর্কতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা জরুরি। বিশেষ করে বেইলী ব্রিজ এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও কাউনিয়া বাস দুর্ঘটনা নতুন করে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের মতে, সময়মতো উদ্ধার তৎপরতা শুরু না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তারা দ্রুত সড়ক সংস্কার, ব্রিজ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পরিবহন চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে জুলাই সনদের প্রচারে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ