মোরেলগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় বৃদ্ধ গ্রেপ্তার, রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

এনায়েত করীম রাজিব, (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় এক স্বামী পরিত্যক্তা প্রতিবন্ধী তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে দায়ের হওয়া ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর ফুলহাতা গ্রামের ভ্যানশ্রমিক মিলন জোমাদ্দারের প্রতিবন্ধী মেয়ে মীম আক্তার (২৪) শনিবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর আগে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থতা ও যন্ত্রণার কথা জানিয়েছিলেন। মীমের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হলে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মীমের বাবা মিলন জোমাদ্দার বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যেখানে নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে একমাত্র আসামি করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জেলা পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ রাতেই তাকে হেফাজতে নেয় এবং দায়ের হওয়া ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মীম আক্তার দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে জীবনযাপন করছিলেন। স্বামী পরিত্যক্তা হওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। কেউ যেন প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের প্রতি নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি বলেন, দায়ের হওয়া ধর্ষণ চেষ্টা মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল বলছেন, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এদিকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলাটি ঘিরে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা তদন্তে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বর্তমানে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদার আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। অন্যদিকে মীম আক্তারের পরিবার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩

মোরেলগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় বৃদ্ধ গ্রেপ্তার, রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

জুন ২১, ২০২৬

এনায়েত করীম রাজিব, (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় এক স্বামী পরিত্যক্তা প্রতিবন্ধী তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে দায়ের হওয়া ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় নূর মোহাম্মদ হাওলাদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) সকালে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর ফুলহাতা গ্রামের ভ্যানশ্রমিক মিলন জোমাদ্দারের প্রতিবন্ধী মেয়ে মীম আক্তার (২৪) শনিবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর আগে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থতা ও যন্ত্রণার কথা জানিয়েছিলেন। মীমের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হলে বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মীমের বাবা মিলন জোমাদ্দার বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যেখানে নূর মোহাম্মদ হাওলাদারকে একমাত্র আসামি করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে বাগেরহাট জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জেলা পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ রাতেই তাকে হেফাজতে নেয় এবং দায়ের হওয়া ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মীম আক্তার দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে জীবনযাপন করছিলেন। স্বামী পরিত্যক্তা হওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। কেউ যেন প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের প্রতি নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি বলেন, দায়ের হওয়া ধর্ষণ চেষ্টা মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল বলছেন, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এদিকে ধর্ষণ চেষ্টা মামলাটি ঘিরে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা তদন্তে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বর্তমানে অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ হাওলাদার আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। অন্যদিকে মীম আক্তারের পরিবার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩