মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং: রাতভর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ

এনায়েত করিম রাজিব, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র ও অঘোষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ নম্বর দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন, ৩ নম্বর পুটিখালি ইউনিয়ন, জোকা বাজার, শহিদ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় রাত নামলেই শুরু হচ্ছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা অনেক বেশি। ফলে গরমের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। চলমান মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং পরিস্থিতির কারণে শিশু, নারী, বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় এক রাতে কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাতের বেলা বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং গরমের কারণে ঘুমের সমস্যাও বাড়ছে। সাধারণ গ্রাহকদের প্রশ্ন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও কেন তাদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। তারা মনে করেন, সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

চলমান মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে শিক্ষার্থীদের ওপর। সামনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী রাতে পর্যাপ্ত সময় পড়াশোনা করতে পারছে না। কয়েকজন শিক্ষক জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাতের মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং। অনেক পরিবারে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি বা জরুরি আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষার মান এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য খাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তীব্র গরমে মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং হওয়ায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেক রোগী নিয়মিত ঘুমাতে না পেরে অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপে ভুগছেন। একই সঙ্গে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ভয়ও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। ফলে জননিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জোকা বাজার ও শহিদ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, রাতের বেলা বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দোকানে ফ্রিজ, ফ্রিজার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, যা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সন্ধ্যার পর ক্রেতা উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এলাকার সচেতন মহল ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বৃহৎ এই উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বরাদ্দ সেই হারে বাড়ানো হয়নি। তাদের মতে, মোরেলগঞ্জের জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং গ্রাহক সংখ্যা বিবেচনায় অতিরিক্ত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ত্রুটি শনাক্ত করে দ্রুত সমাধানেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং চলমান মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাদের দাবি, রাতের বেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসবে।

আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩

মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং: রাতভর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ

জুন ১৮, ২০২৬

এনায়েত করিম রাজিব, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র ও অঘোষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ নম্বর দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন, ৩ নম্বর পুটিখালি ইউনিয়ন, জোকা বাজার, শহিদ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় রাত নামলেই শুরু হচ্ছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা অনেক বেশি। ফলে গরমের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। চলমান মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং পরিস্থিতির কারণে শিশু, নারী, বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় এক রাতে কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাতের বেলা বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে এবং গরমের কারণে ঘুমের সমস্যাও বাড়ছে। সাধারণ গ্রাহকদের প্রশ্ন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও কেন তাদের এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। তারা মনে করেন, সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

চলমান মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে শিক্ষার্থীদের ওপর। সামনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী রাতে পর্যাপ্ত সময় পড়াশোনা করতে পারছে না। কয়েকজন শিক্ষক জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাতের মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং। অনেক পরিবারে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি বা জরুরি আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষার মান এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য খাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তীব্র গরমে মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং হওয়ায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেক রোগী নিয়মিত ঘুমাতে না পেরে অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপে ভুগছেন। একই সঙ্গে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ভয়ও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। ফলে জননিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জোকা বাজার ও শহিদ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, রাতের বেলা বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দোকানে ফ্রিজ, ফ্রিজার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, যা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। সন্ধ্যার পর ক্রেতা উপস্থিত থাকলেও অনেক সময় দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এলাকার সচেতন মহল ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বৃহৎ এই উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বরাদ্দ সেই হারে বাড়ানো হয়নি। তাদের মতে, মোরেলগঞ্জের জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং গ্রাহক সংখ্যা বিবেচনায় অতিরিক্ত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ত্রুটি শনাক্ত করে দ্রুত সমাধানেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং চলমান মোরেলগঞ্জ লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাদের দাবি, রাতের বেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসবে।

আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩