মোঃ আলমগীর হোসাইন, রংপুর বিভাগীয় প্রধানঃ
রংপুর অঞ্চলের আলুচাষিদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাজারে আলুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, পরিবহন ব্যয়ও তুলতে পারছেন না কৃষকরা। এ পরিস্থিতিতে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে সড়কে আলু ঢেলে অভিনব বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শতাধিক কৃষক। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে কৃষি পেশা টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সেই আলু বাজারে পৌঁছাতে পরিবহন খরচই গুনতে হচ্ছে ৮ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রতিটি কেজি আলু বিক্রিতে সরাসরি লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্যমূল্য না থাকায় অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং আগামী মৌসুমে আলু চাষ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এতে শুধু কৃষক পরিবার নয়, দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের বাজারমূল্য সেই হারে বাড়েনি। একজন কৃষক বলেন, “আমরা দিনরাত মাঠে কাজ করি, কিন্তু ফসল বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠাতে পারছি না। ৭ টাকায় আলু বিক্রি করে ৮ টাকা ভাড়া দিলে পরিবার চালানো অসম্ভব।” তাদের মতে, কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে হলে আলুর ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
প্রতিবাদকারীরা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরলেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান পাননি। কৃষকদের দাবি, বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে মূল্য ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে ভোক্তারা তুলনামূলক বেশি দামে আলু কিনলেও কৃষকরা পাচ্ছেন না তাদের প্রাপ্য অংশ। এই বৈষম্য দূর না হলে কৃষি খাতে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষকদের ধারাবাহিক লোকসান দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক। কৃষি খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় কর্মসূচি জোরদার করা, পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে কৃষকরা আলু চাষে আগ্রহ হারালে উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিক্ষুব্ধ কৃষকরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় মূল্য নির্ধারণ, সহজ শর্তে হিমাগার সুবিধা, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং বাজারে কৃষকের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তারা সতর্ক করে বলেন, দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। কৃষকদের এই প্রতিবাদ শুধু অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি নয়, বরং দেশের কৃষি ব্যবস্থার একটি গভীর বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
রংপুরের মাঠঘাটে এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে একটি প্রশ্ন—কৃষকের ঘামে ফলানো ফসলের ন্যায্য মূল্য যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে দেশের কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়াবে? কৃষকদের দাবি, সময় থাকতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উৎপাদন হ্রাস, কৃষক সংকট এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো বড় চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে।
আরোও পড়ুন – উলিপুরে ভিজিএফ স্লিপ কাণ্ড: ১০৪ স্লিপসহ আটক ব্যক্তি গভীর রাতে মুক্ত
আলুর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে সড়কে আলু ঢেলে কৃষকদের বিক্ষোভ, লোকসানে রংপুরের চাষিরা
মোঃ আলমগীর হোসাইন, রংপুর বিভাগীয় প্রধানঃ
রংপুর অঞ্চলের আলুচাষিদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাজারে আলুর দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, পরিবহন ব্যয়ও তুলতে পারছেন না কৃষকরা। এ পরিস্থিতিতে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে সড়কে আলু ঢেলে অভিনব বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শতাধিক কৃষক। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে কৃষি পেশা টিকিয়ে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সেই আলু বাজারে পৌঁছাতে পরিবহন খরচই গুনতে হচ্ছে ৮ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রতিটি কেজি আলু বিক্রিতে সরাসরি লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্যমূল্য না থাকায় অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং আগামী মৌসুমে আলু চাষ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এতে শুধু কৃষক পরিবার নয়, দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক খরচ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের বাজারমূল্য সেই হারে বাড়েনি। একজন কৃষক বলেন, “আমরা দিনরাত মাঠে কাজ করি, কিন্তু ফসল বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠাতে পারছি না। ৭ টাকায় আলু বিক্রি করে ৮ টাকা ভাড়া দিলে পরিবার চালানো অসম্ভব।” তাদের মতে, কৃষকের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে হলে আলুর ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
প্রতিবাদকারীরা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যার কথা তুলে ধরলেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান পাননি। কৃষকদের দাবি, বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে মূল্য ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে ভোক্তারা তুলনামূলক বেশি দামে আলু কিনলেও কৃষকরা পাচ্ছেন না তাদের প্রাপ্য অংশ। এই বৈষম্য দূর না হলে কৃষি খাতে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষকদের ধারাবাহিক লোকসান দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগজনক। কৃষি খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় কর্মসূচি জোরদার করা, পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে কৃষকরা আলু চাষে আগ্রহ হারালে উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিক্ষুব্ধ কৃষকরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় মূল্য নির্ধারণ, সহজ শর্তে হিমাগার সুবিধা, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং বাজারে কৃষকের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তারা সতর্ক করে বলেন, দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। কৃষকদের এই প্রতিবাদ শুধু অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি নয়, বরং দেশের কৃষি ব্যবস্থার একটি গভীর বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
রংপুরের মাঠঘাটে এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে একটি প্রশ্ন—কৃষকের ঘামে ফলানো ফসলের ন্যায্য মূল্য যদি নিশ্চিত না হয়, তাহলে দেশের কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়াবে? কৃষকদের দাবি, সময় থাকতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উৎপাদন হ্রাস, কৃষক সংকট এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো বড় চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে।
আরোও পড়ুন – উলিপুরে ভিজিএফ স্লিপ কাণ্ড: ১০৪ স্লিপসহ আটক ব্যক্তি গভীর রাতে মুক্ত