বাগেরহাট হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরি বহালের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ

এনায়েত করীম রাজিব, (বাগেরহাট):

বাগেরহাটের ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীরা আউটসোর্সিং চাকরি বহাল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে অভিজ্ঞ কর্মীদের বহাল রাখার দাবি জানান এবং হাসপাতালের সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের কর্মচারী রবিউল হাসান আকাশ। তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারা প্রতিদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, রোগীদের সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা, গুরুতর রোগীদের এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর, জরুরি সেবায় সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আউটসোর্সিং চাকরি থেকে তাদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের বাদ দেওয়া যাবে না। অথচ সেই নীতিমালা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এতে শুধু কর্মীদের জীবিকা নয়, হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবাও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মীদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে আউটসোর্সিং চাকরি বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি মো. আল আমিন বলেন, বর্তমান নিয়োগের মেয়াদ দুই বছর হলেও অনেক কর্মচারী গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অল্প বেতন, কখনও কখনও বেতন ছাড়াই তারা হাসপাতালের সেবাকে সচল রাখতে কাজ করেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ রোগীরা সন্তুষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্যোগকে তিনি অমানবিক বলে উল্লেখ করেন এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মীদের আউটসোর্সিং চাকরি বহাল রাখার জোর দাবি জানান।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ জুন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী যোগদান করেন। যোগদানের সময় তাদের কাজের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পর নতুন করে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসে। এতে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, নীতিমালা অনুসরণ করা হলে কর্মরত কর্মীদের বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে জারি করা ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা-২০২৫’-এ বলা হয়েছে, নতুন চুক্তি বা চুক্তি নবায়নের সময় যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর্মরত সেবাকর্মীদের বাদ দেওয়া যাবে না। যদি বিশেষ কোনো কারণে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটির মতামত গ্রহণ করতে হবে। কর্মচারীরা দাবি করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

এদিকে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচ আর ডি এ্যান্ড ই এজেন্সি-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের একটি তালিকা জমা দিয়েছে, যেখানে পুরোনো ১০ জন কর্মচারীর নাম রয়েছে। হাসপাতালের আউটসোর্সিং বিষয়ক কমিটি পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩

বাগেরহাট হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরি বহালের দাবি, সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ

জুন ২৭, ২০২৬

এনায়েত করীম রাজিব, (বাগেরহাট):

বাগেরহাটের ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীরা আউটসোর্সিং চাকরি বহাল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা সরকারের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে অভিজ্ঞ কর্মীদের বহাল রাখার দাবি জানান এবং হাসপাতালের সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের কর্মচারী রবিউল হাসান আকাশ। তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারা প্রতিদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, রোগীদের সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা, গুরুতর রোগীদের এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর, জরুরি সেবায় সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আউটসোর্সিং চাকরি থেকে তাদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের বাদ দেওয়া যাবে না। অথচ সেই নীতিমালা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এতে শুধু কর্মীদের জীবিকা নয়, হাসপাতালের স্বাভাবিক সেবাও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মীদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে আউটসোর্সিং চাকরি বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি মো. আল আমিন বলেন, বর্তমান নিয়োগের মেয়াদ দুই বছর হলেও অনেক কর্মচারী গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অল্প বেতন, কখনও কখনও বেতন ছাড়াই তারা হাসপাতালের সেবাকে সচল রাখতে কাজ করেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ রোগীরা সন্তুষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বাদ দিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্যোগকে তিনি অমানবিক বলে উল্লেখ করেন এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মীদের আউটসোর্সিং চাকরি বহাল রাখার জোর দাবি জানান।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ জুন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী যোগদান করেন। যোগদানের সময় তাদের কাজের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পর নতুন করে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসে। এতে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, নীতিমালা অনুসরণ করা হলে কর্মরত কর্মীদের বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে জারি করা ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা-২০২৫’-এ বলা হয়েছে, নতুন চুক্তি বা চুক্তি নবায়নের সময় যৌক্তিক কারণ ছাড়া কর্মরত সেবাকর্মীদের বাদ দেওয়া যাবে না। যদি বিশেষ কোনো কারণে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটির মতামত গ্রহণ করতে হবে। কর্মচারীরা দাবি করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

এদিকে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচ আর ডি এ্যান্ড ই এজেন্সি-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের একটি তালিকা জমা দিয়েছে, যেখানে পুরোনো ১০ জন কর্মচারীর নাম রয়েছে। হাসপাতালের আউটসোর্সিং বিষয়ক কমিটি পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

আরোও পড়ুন – বাগেরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩