মোহনপুরে আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত কয়েকজন

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের হরিহরপাড়া গ্রামে আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) হরিহরপাড়া গ্রামের ভুগর মণ্ডলের ছেলে। সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকলেও সেটি সমাধানের উদ্যোগ কার্যকরভাবে নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই ঘটনা একটি প্রাণহানিতে গড়ায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির একটি আমগাছ থেকে আম নামানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বাকবিতণ্ডা আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আহত আরও কয়েকজনকে প্রথমে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী, শিশু ও বয়স্করা নিরাপদ স্থানে সরে যান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও প্রথমদিকে তা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষ-এর পর নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষ-এর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ আটক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ছোটখাটো পারিবারিক বিরোধ সময়মতো সমাধান না হওয়ায় এমন ঘটনা প্রায়ই বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। তারা মনে করছেন, স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। আহতদের স্বজনরাও হাসপাতাল ও বাড়িতে উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষ-এর এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

আরোও পড়ুন – ঈদে রাজশাহীতে র‍্যাবের কড়া নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৫ জেলা!

মোহনপুরে আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত কয়েকজন

জুন ২৮, ২০২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের হরিহরপাড়া গ্রামে আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) হরিহরপাড়া গ্রামের ভুগর মণ্ডলের ছেলে। সংঘর্ষের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকলেও সেটি সমাধানের উদ্যোগ কার্যকরভাবে নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই ঘটনা একটি প্রাণহানিতে গড়ায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির একটি আমগাছ থেকে আম নামানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বাকবিতণ্ডা আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আহত আরও কয়েকজনকে প্রথমে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী, শিশু ও বয়স্করা নিরাপদ স্থানে সরে যান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও প্রথমদিকে তা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে মোহনপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষ-এর পর নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষ-এর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ আটক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ছোটখাটো পারিবারিক বিরোধ সময়মতো সমাধান না হওয়ায় এমন ঘটনা প্রায়ই বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। তারা মনে করছেন, স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। আহতদের স্বজনরাও হাসপাতাল ও বাড়িতে উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। আম নামানো নিয়ে সংঘর্ষ-এর এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

আরোও পড়ুন – ঈদে রাজশাহীতে র‍্যাবের কড়া নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৫ জেলা!