ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ
কুষ্টিয়ায় জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া গুজবের জেরে মধ্যরাতে শহর ও উপজেলার বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিত্তিহীন তথ্য দ্রুত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের জন্য পাম্পে ভিড় করেন। তবে জেলা তেল পাম্প মালিক সমিতি এবং একাধিক পাম্প মালিক জানিয়েছেন, জেলায় জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত মজুত ও নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা সবাইকে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাত ১০টার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ এবং মুখে মুখে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই শহরের বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই আশঙ্কা করেন, পরদিন হয়তো তেল পাওয়া যাবে না। ফলে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ একই সময়ে পাম্পে উপস্থিত হন। এতে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।
পাম্পে তেল নিতে আসা শাহরিয়ার ইমাম বলেন, “প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেলে তেল নিতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। কেন এমন ভিড়, তার সঠিক কারণ কেউই বলতে পারছিল না। পরে জানতে পারি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বাস্তবে তেলের কোনো ঘাটতি চোখে পড়েনি।
আরেক গ্রাহক মিরাজুল ইসলাম বলেন, “রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়ার প্রায় সব পেট্রলপাম্পেই অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যায়। পরে জানতে পারি, জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করতে শুরু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
গুজবের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে জরুরি সেবার যানবাহনের ওপর। জরুরি রোগী নিয়ে তেল নিতে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক সৌরভ জানান, “রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এ সময় কয়েকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়া খুবই উদ্বেগের বিষয়।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের মন্ডল ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী রাকিবুজ্জামান সেতু বলেন, “কুষ্টিয়ায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব। আমাদের পাম্পে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে এবং নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত আছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।
জেলা তেল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি আক্তারুজ্জামান বলেন, “একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়িয়েছে। আমরা ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। জেলায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে শান্ত ও সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যাচাই না করা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি হয়। এতে শুধু সাধারণ গ্রাহকরাই নন, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবা এবং প্রয়োজনীয় পরিবহনও ভোগান্তির মুখে পড়ে। তাই কোনো তথ্য শেয়ার বা বিশ্বাস করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। সচেতনতা বাড়ানো এবং গুজব প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম তদন্তে সরেজমিনে এমপি আমির হামজা
কুষ্টিয়ায় জ্বালানি তেলের সংকট গুজব, মধ্যরাতে পেট্রলপাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি
ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ
কুষ্টিয়ায় জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া গুজবের জেরে মধ্যরাতে শহর ও উপজেলার বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিত্তিহীন তথ্য দ্রুত মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের জন্য পাম্পে ভিড় করেন। তবে জেলা তেল পাম্প মালিক সমিতি এবং একাধিক পাম্প মালিক জানিয়েছেন, জেলায় জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত মজুত ও নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা সবাইকে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাত ১০টার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ এবং মুখে মুখে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই শহরের বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই আশঙ্কা করেন, পরদিন হয়তো তেল পাওয়া যাবে না। ফলে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ একই সময়ে পাম্পে উপস্থিত হন। এতে দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।
পাম্পে তেল নিতে আসা শাহরিয়ার ইমাম বলেন, “প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেলে তেল নিতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। কেন এমন ভিড়, তার সঠিক কারণ কেউই বলতে পারছিল না। পরে জানতে পারি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বাস্তবে তেলের কোনো ঘাটতি চোখে পড়েনি।
আরেক গ্রাহক মিরাজুল ইসলাম বলেন, “রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়ার প্রায় সব পেট্রলপাম্পেই অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যায়। পরে জানতে পারি, জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করতে শুরু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
গুজবের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে জরুরি সেবার যানবাহনের ওপর। জরুরি রোগী নিয়ে তেল নিতে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক সৌরভ জানান, “রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এ সময় কয়েকজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়া খুবই উদ্বেগের বিষয়।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরের মন্ডল ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী রাকিবুজ্জামান সেতু বলেন, “কুষ্টিয়ায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব। আমাদের পাম্পে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে এবং নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত আছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রয়োজন নেই।
জেলা তেল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি আক্তারুজ্জামান বলেন, “একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়িয়েছে। আমরা ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। জেলায় পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে শান্ত ও সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যাচাই না করা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি হয়। এতে শুধু সাধারণ গ্রাহকরাই নন, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবা এবং প্রয়োজনীয় পরিবহনও ভোগান্তির মুখে পড়ে। তাই কোনো তথ্য শেয়ার বা বিশ্বাস করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। সচেতনতা বাড়ানো এবং গুজব প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম তদন্তে সরেজমিনে এমপি আমির হামজা