মোঃ মেহেদী হাসান, মঠবাড়িয়া, (পিরোজপুর)
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দুর্যোগ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ অনুদান এবং আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন দুলাল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির, পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন ফরাজী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ আমিন বাবু, মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল কবির মিরাজসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে সরকারি সহায়তা তুলে দেওয়া হলে উপস্থিতদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের আওতায় পরিচালিত দুর্যোগ সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৫৬টি পরিবারকে একটি করে ঢেউটিন এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য ৩ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি গৃহনির্মাণ ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে আরও ১৭৫টি পরিবারের মধ্যে মোট ৭ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন দুলাল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, তাদের জীবন-জীবিকাও সংকটের মুখে পড়ে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, আজকের দুর্যোগ সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে যেসব পরিবার সরকারি সহায়তা পেয়েছে, তা তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে। ভবিষ্যতেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপকারভোগীরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। অনেকেই জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুন করে ঘর মেরামত কিংবা নির্মাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। সরকারি অনুদান ও ঢেউটিন পাওয়ায় তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার দাবি জানান।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই সহায়তা বিতরণ করা হয়। সরকারের লক্ষ্য হলো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে তাদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
আরোও পড়ুন – শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় জানাতে প্রস্তুত বেতমোর রাজপাড়া বিদ্যালয়
মঠবাড়িয়ায় দুর্যোগ সহায়তা: ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও ৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ
মোঃ মেহেদী হাসান, মঠবাড়িয়া, (পিরোজপুর)
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দুর্যোগ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ অনুদান এবং আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন দুলাল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির, পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন ফরাজী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য খালিদ সাইফুল্লাহ আমিন বাবু, মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল কবির মিরাজসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে সরকারি সহায়তা তুলে দেওয়া হলে উপস্থিতদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের আওতায় পরিচালিত দুর্যোগ সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৫৬টি পরিবারকে একটি করে ঢেউটিন এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য ৩ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি গৃহনির্মাণ ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে আরও ১৭৫টি পরিবারের মধ্যে মোট ৭ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন দুলাল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, তাদের জীবন-জীবিকাও সংকটের মুখে পড়ে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, আজকের দুর্যোগ সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে যেসব পরিবার সরকারি সহায়তা পেয়েছে, তা তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে। ভবিষ্যতেও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপকারভোগীরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। অনেকেই জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুন করে ঘর মেরামত কিংবা নির্মাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। সরকারি অনুদান ও ঢেউটিন পাওয়ায় তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার দাবি জানান।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই সহায়তা বিতরণ করা হয়। সরকারের লক্ষ্য হলো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে তাদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।
আরোও পড়ুন – শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় জানাতে প্রস্তুত বেতমোর রাজপাড়া বিদ্যালয়