সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে আবারও সফল অভিযান পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মহেশপুর মাদক উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে ৪১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩৭৩ বোতল ভারতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার থাকায় মাদক চোরাচালানকারীরা আগের মতো সক্রিয় হতে পারছে না এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের তৎপরতা ব্যাহত করা হচ্ছে।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত মাটিলা ও যাদবপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রথমে মাটিলা বিওপির সদস্যরা সীমান্ত পিলার ৫২/১১-আর সংলগ্ন মাটিলা গ্রামের মো. গাফফারের বাড়ির পাশ থেকে একটি ভারতীয় মদের বোতল এবং ৩৭৩ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার করেন। পরে যাদবপুর বিওপির সদস্যরা সীমান্ত পিলার ৪৭/৪-এস সংলগ্ন গোপালপুর গ্রামের মো. বাক্কা আলীর পাটক্ষেতের পাশ থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় আরও ৪০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেন। এভাবে পৃথক দুই অভিযানে মহেশপুর মাদক উদ্ধার কার্যক্রমে মোট ৪১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩৭৩ বোতল ভারতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, অভিযানের সময় সম্ভাব্য চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কোনো আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যাতে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধ করা যায়।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও এসব অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্ত নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধ দমনে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হওয়ায় মাদক চোরাচালানকারীদের চলাচল অনেকটাই সীমিত হয়েছে। তবে সীমান্তকে ব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার অপচেষ্টা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মহেশপুর মাদক উদ্ধার অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। বিজিবিও জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত নিরাপদ রাখতে এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান ও টহল কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আরোও পড়ুন – মহেশপুরে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ, সীমান্তের ১০০ দুস্থ পরিবারের পাশে ৫৮ বিজিবি
ঝিনাইদহ মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩৭৩ বোতল সিরাপ উদ্ধার
সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে আবারও সফল অভিযান পরিচালনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মহেশপুর মাদক উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে ৪১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩৭৩ বোতল ভারতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার থাকায় মাদক চোরাচালানকারীরা আগের মতো সক্রিয় হতে পারছে না এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের তৎপরতা ব্যাহত করা হচ্ছে।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত মাটিলা ও যাদবপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে প্রথমে মাটিলা বিওপির সদস্যরা সীমান্ত পিলার ৫২/১১-আর সংলগ্ন মাটিলা গ্রামের মো. গাফফারের বাড়ির পাশ থেকে একটি ভারতীয় মদের বোতল এবং ৩৭৩ বোতল ভারতীয় সিরাপ উদ্ধার করেন। পরে যাদবপুর বিওপির সদস্যরা সীমান্ত পিলার ৪৭/৪-এস সংলগ্ন গোপালপুর গ্রামের মো. বাক্কা আলীর পাটক্ষেতের পাশ থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় আরও ৪০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেন। এভাবে পৃথক দুই অভিযানে মহেশপুর মাদক উদ্ধার কার্যক্রমে মোট ৪১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৩৭৩ বোতল ভারতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, অভিযানের সময় সম্ভাব্য চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কোনো আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যাতে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধ করা যায়।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও এসব অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্ত নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধ দমনে বিজিবির সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হওয়ায় মাদক চোরাচালানকারীদের চলাচল অনেকটাই সীমিত হয়েছে। তবে সীমান্তকে ব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার অপচেষ্টা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মহেশপুর মাদক উদ্ধার অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। বিজিবিও জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত নিরাপদ রাখতে এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান ও টহল কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আরোও পড়ুন – মহেশপুরে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ, সীমান্তের ১০০ দুস্থ পরিবারের পাশে ৫৮ বিজিবি