শরীয়তপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ফসলি জমি বিলীনের শঙ্কা

নাদিম তালুকদার, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের উত্তর শৌলা এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ফসলি জমির আশপাশ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি ও বালু উত্তোলন করছে। এতে জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ভেঙে বা ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উত্তর শৌলা গ্রামের বিধবা নারী সালমা বেগম।

লিখিত অভিযোগে সালমা বেগম উল্লেখ করেন, উত্তর শৌলা এলাকায় তাঁর বসতবাড়ির পাশের জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এভাবে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে জমির আশপাশে গভীর গর্ত তৈরি হচ্ছে এবং ফসলি জমির মাটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। নিয়ম না মেনে এ কার্যক্রম চলতে থাকলে তাঁর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভাঙনের শিকার হতে পারে। এতে তাঁর পরিবারের কৃষিনির্ভর জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তর শৌলা গ্রামের মৃত শুকুর মুন্সীর স্ত্রী সালমা বেগমের জমির পাশে ড্রেজার বসিয়ে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর বিরুদ্ধে এ কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মুজাহিদের মাধ্যমে ড্রেজার এনে সেখানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী সালমা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অনেকটা অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাঁর কোনো ছেলে নেই এবং জমিজমার ওপর নির্ভর করেই পরিবারের জীবন চলছে। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাশের জমির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ড্রেজার বসিয়ে তাঁর জমির আশপাশ থেকে মাটির উপরিভাগসহ বালু তুলে নিচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করলে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিজের জমি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়সংগত প্রতিকার দাবি করেছেন।

সালমা বেগমের মেয়ে নাজনীন বলেন, তাঁদের পরিবারের জন্য জমিটুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা না থাকায় এবং কোনো ভাই না থাকায় অন্যের সহযোগিতা নিয়ে তাঁরা জমিতে চাষাবাদ করেন। তাঁর ভাষ্য, জমির আশপাশ থেকে বালু ও মাটি তুলে নেওয়া অব্যাহত থাকলে তাঁদের কৃষিজমি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবারের আয়-রোজগারের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় তাঁদের ওপর চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আরেক ভুক্তভোগী আনসার হাওলাদার বলেন, উত্তর শৌলা এলাকায় তাঁর প্রায় ২৪ শতক জমি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে আশপাশের মাটি ও বালু উত্তোলনের কারণে তাঁর জমিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, ফসলি জমির পাশে অতিরিক্ত মাটি কেটে নেওয়া হলে জমির সীমানা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর দাবি, কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফসলি জমির কাছাকাছি থেকে যন্ত্রের মাধ্যমে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হলে শুধু একটি জমিই নয়, আশপাশের একাধিক কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে জমির কিনারা নরম হয়ে গেলে ড্রেজারের মাধ্যমে কেটে নেওয়া অংশে পানি জমে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে কৃষকদের আবাদি জমি সংকুচিত হতে পারে এবং স্থানীয় পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত পরিদর্শন করে কোথা থেকে, কার অনুমতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে—তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন, জমির অবস্থান ও মালিকানা যাচাই এবং বালু ও মাটি উত্তোলনের বৈধতা পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট তহসিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এ উদ্যোগে ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে শুধু বালু উত্তোলন বন্ধ করাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত জমির সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম পুনরায় না ঘটার বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

উত্তর শৌলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মূল উদ্বেগ এখন কৃষিজমির নিরাপত্তা। তাঁদের মতে, কৃষিজমির পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন চলতে থাকলে একদিকে জমির উর্বরতা ও ব্যবহারযোগ্যতা কমতে পারে, অন্যদিকে জমির সীমানা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় প্রশাসনের দ্রুত সরেজমিন তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে কৃষিজমি রক্ষা এবং স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আরোও পড়ুন – আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া: সংগ্রাম, গণতন্ত্র ও মানুষের ভালোবাসায় এক জীবন্ত ইতিহাস

শরীয়তপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ফসলি জমি বিলীনের শঙ্কা

আগস্ট ১৫, ২০২৬

নাদিম তালুকদার, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের উত্তর শৌলা এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ফসলি জমির আশপাশ থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি ও বালু উত্তোলন করছে। এতে জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ভেঙে বা ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উত্তর শৌলা গ্রামের বিধবা নারী সালমা বেগম।

লিখিত অভিযোগে সালমা বেগম উল্লেখ করেন, উত্তর শৌলা এলাকায় তাঁর বসতবাড়ির পাশের জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এভাবে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে জমির আশপাশে গভীর গর্ত তৈরি হচ্ছে এবং ফসলি জমির মাটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। নিয়ম না মেনে এ কার্যক্রম চলতে থাকলে তাঁর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভাঙনের শিকার হতে পারে। এতে তাঁর পরিবারের কৃষিনির্ভর জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তর শৌলা গ্রামের মৃত শুকুর মুন্সীর স্ত্রী সালমা বেগমের জমির পাশে ড্রেজার বসিয়ে মাটির উপরিভাগসহ বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মালেক মুন্সী, হালেম মুন্সী, সোলেমান মুন্সী, সবুজ মুন্সী ও মজিদ মুন্সীর বিরুদ্ধে এ কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী চন্দ্রপুর ইউনিয়নের মুজাহিদের মাধ্যমে ড্রেজার এনে সেখানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী সালমা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি অনেকটা অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাঁর কোনো ছেলে নেই এবং জমিজমার ওপর নির্ভর করেই পরিবারের জীবন চলছে। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাশের জমির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ড্রেজার বসিয়ে তাঁর জমির আশপাশ থেকে মাটির উপরিভাগসহ বালু তুলে নিচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করলে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিজের জমি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায়সংগত প্রতিকার দাবি করেছেন।

সালমা বেগমের মেয়ে নাজনীন বলেন, তাঁদের পরিবারের জন্য জমিটুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা না থাকায় এবং কোনো ভাই না থাকায় অন্যের সহযোগিতা নিয়ে তাঁরা জমিতে চাষাবাদ করেন। তাঁর ভাষ্য, জমির আশপাশ থেকে বালু ও মাটি তুলে নেওয়া অব্যাহত থাকলে তাঁদের কৃষিজমি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবারের আয়-রোজগারের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় তাঁদের ওপর চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আরেক ভুক্তভোগী আনসার হাওলাদার বলেন, উত্তর শৌলা এলাকায় তাঁর প্রায় ২৪ শতক জমি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে আশপাশের মাটি ও বালু উত্তোলনের কারণে তাঁর জমিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, ফসলি জমির পাশে অতিরিক্ত মাটি কেটে নেওয়া হলে জমির সীমানা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর দাবি, কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফসলি জমির কাছাকাছি থেকে যন্ত্রের মাধ্যমে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হলে শুধু একটি জমিই নয়, আশপাশের একাধিক কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে জমির কিনারা নরম হয়ে গেলে ড্রেজারের মাধ্যমে কেটে নেওয়া অংশে পানি জমে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে কৃষকদের আবাদি জমি সংকুচিত হতে পারে এবং স্থানীয় পরিবেশেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টি দ্রুত পরিদর্শন করে কোথা থেকে, কার অনুমতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে—তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন, জমির অবস্থান ও মালিকানা যাচাই এবং বালু ও মাটি উত্তোলনের বৈধতা পরীক্ষা করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট তহসিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এ উদ্যোগে ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে শুধু বালু উত্তোলন বন্ধ করাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত জমির সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম পুনরায় না ঘটার বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

উত্তর শৌলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মূল উদ্বেগ এখন কৃষিজমির নিরাপত্তা। তাঁদের মতে, কৃষিজমির পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন চলতে থাকলে একদিকে জমির উর্বরতা ও ব্যবহারযোগ্যতা কমতে পারে, অন্যদিকে জমির সীমানা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় প্রশাসনের দ্রুত সরেজমিন তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে কৃষিজমি রক্ষা এবং স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আরোও পড়ুন – আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া: সংগ্রাম, গণতন্ত্র ও মানুষের ভালোবাসায় এক জীবন্ত ইতিহাস