সাদ্দাম হোসেন সাইফ | বান্দরবান প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের লামা উপজেলার ৫নং সরই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পুইট্যাঝিরি পাড়ায় গভীর রাতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পাড়াকেন্দ্র স্কুলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৪ আগস্ট রাতের পৃথক ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে শিশুদের পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র আগুনে পুড়ে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল কালাম ঘটনার তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে আবুল হোসেন, স্থানীয়ভাবে আবুল নামে পরিচিত, একটি বসতবাড়িতে প্রবেশ করে বাতি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ঘরে থাকা নারীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর একই রাতে আনুমানিক ৩টার দিকে স্থানীয় শিশুদের পড়াশোনার জন্য ব্যবহৃত পাড়াকেন্দ্র স্কুলটিতে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনে কেন্দ্রটির স্থাপনা ও ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এই শিক্ষা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুইট্যাঝিরি পাড়ার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আগুনে কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিশুদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য এ ধরনের শিক্ষা কেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রত্যন্ত পাড়ার ছোট শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুযোগ সীমিত হওয়ায় কাছাকাছি থাকা কেন্দ্রগুলোই তাদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসা। তাই পাড়াকেন্দ্র স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় শুধু একটি স্থাপনা নয়, স্থানীয় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন তারা। অভিভাবকদের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অস্থায়ী পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে এর আগেও স্থানীয়ভাবে শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এসব অভিযোগের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার বিষয়ে কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দীপেন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে পাড়াকেন্দ্র স্কুলে আগুন দেওয়ার বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্ত টিম কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, এতে কারা জড়িত এবং ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ঘটনার পর পুইট্যাঝিরি পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবকরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে।
আরোও পড়ুন – লামায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
লামায় পাড়াকেন্দ্র স্কুলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় স্থানীয়রা
সাদ্দাম হোসেন সাইফ | বান্দরবান প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের লামা উপজেলার ৫নং সরই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের পুইট্যাঝিরি পাড়ায় গভীর রাতে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পাড়াকেন্দ্র স্কুলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৪ আগস্ট রাতের পৃথক ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে শিশুদের পড়াশোনার গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র আগুনে পুড়ে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুল কালাম ঘটনার তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে আবুল হোসেন, স্থানীয়ভাবে আবুল নামে পরিচিত, একটি বসতবাড়িতে প্রবেশ করে বাতি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ঘরে থাকা নারীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর একই রাতে আনুমানিক ৩টার দিকে স্থানীয় শিশুদের পড়াশোনার জন্য ব্যবহৃত পাড়াকেন্দ্র স্কুলটিতে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনে কেন্দ্রটির স্থাপনা ও ভেতরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এই শিক্ষা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুইট্যাঝিরি পাড়ার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আগুনে কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিশুদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য এ ধরনের শিক্ষা কেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রত্যন্ত পাড়ার ছোট শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুযোগ সীমিত হওয়ায় কাছাকাছি থাকা কেন্দ্রগুলোই তাদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসা। তাই পাড়াকেন্দ্র স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় শুধু একটি স্থাপনা নয়, স্থানীয় শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমও ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন তারা। অভিভাবকদের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অস্থায়ী পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে এর আগেও স্থানীয়ভাবে শালিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এসব অভিযোগের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার বিষয়ে কেয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দীপেন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে পাড়াকেন্দ্র স্কুলে আগুন দেওয়ার বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্ত টিম কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, এতে কারা জড়িত এবং ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ঘটনার পর পুইট্যাঝিরি পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা কেন্দ্র পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবকরা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন হবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে।
আরোও পড়ুন – লামায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল