কক্সবাজারে অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজারে বেড়াতে এসে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সীমা আক্তার কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর এলাকার মাহাবুব আলমের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বজনদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের সঙ্গে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতে সময় কাটানোর পর অটোরিকশায় করে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সীমা। অটোরিকশাটি সড়ক দিয়ে চলার সময় তার পরনে থাকা ওড়নাটি পেছনের একটি চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর এলাকা থেকে ১৭ জনের একটি দল কক্সবাজারে বেড়াতে আসে। ভ্রমণের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে দলটির সদস্যরা একসঙ্গে সুগন্ধা সৈকতে যান। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর তারা ফেরার জন্য রওনা হন। ফেরার পথেই অটোরিকশায় ঘটে যায় দুর্ঘটনাটি। আনন্দভ্রমণে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। স্বজনদের বর্ণনায়, দুর্ঘটনার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সীমাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু পুরো পরিবার ও সফরসঙ্গীদের জন্য আকস্মিক শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন সম্পর্কে জানা যায়, চলন্ত অটোরিকশার পেছনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে যাওয়ার পরই সীমা গুরুতর আহত হন। ওড়না বা ঢিলেঢালা পোশাক চলন্ত যানবাহনের চাকায় বা অন্যান্য যন্ত্রাংশে আটকে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে ওড়নাটি চাকায় পেঁচিয়ে যায়, তা বিস্তারিতভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে অটোরিকশায় চলাচলের সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর নিহতের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পর দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে। আপাতত পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকাহত অবস্থায় রয়েছেন।

কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যু ভ্রমণসঙ্গীদের জন্যও গভীর শোকের কারণ হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে আসা সীমার জীবন শেষ হয়ে যায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনায়। এ ঘটনায় অটোরিকশায় যাতায়াতের সময় ওড়না বা ঢিলেঢালা পোশাকের বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

আরোও পড়ুন – বার্কিপুরে ঘরের ওপর বিদ্যুৎ লাইন, গাছ পড়ে আগুন

কক্সবাজারে অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু

অক্টোবর ৬, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজারে বেড়াতে এসে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সীমা আক্তার কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর এলাকার মাহাবুব আলমের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বজনদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের সঙ্গে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতে সময় কাটানোর পর অটোরিকশায় করে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সীমা। অটোরিকশাটি সড়ক দিয়ে চলার সময় তার পরনে থাকা ওড়নাটি পেছনের একটি চাকায় পেঁচিয়ে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড় আলমপুর এলাকা থেকে ১৭ জনের একটি দল কক্সবাজারে বেড়াতে আসে। ভ্রমণের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে দলটির সদস্যরা একসঙ্গে সুগন্ধা সৈকতে যান। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর তারা ফেরার জন্য রওনা হন। ফেরার পথেই অটোরিকশায় ঘটে যায় দুর্ঘটনাটি। আনন্দভ্রমণে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। স্বজনদের বর্ণনায়, দুর্ঘটনার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সীমাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু পুরো পরিবার ও সফরসঙ্গীদের জন্য আকস্মিক শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন সম্পর্কে জানা যায়, চলন্ত অটোরিকশার পেছনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে যাওয়ার পরই সীমা গুরুতর আহত হন। ওড়না বা ঢিলেঢালা পোশাক চলন্ত যানবাহনের চাকায় বা অন্যান্য যন্ত্রাংশে আটকে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে ওড়নাটি চাকায় পেঁচিয়ে যায়, তা বিস্তারিতভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে অটোরিকশায় চলাচলের সময়ই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার পর নিহতের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পর দুর্ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে। আপাতত পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকাহত অবস্থায় রয়েছেন।

কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যু ভ্রমণসঙ্গীদের জন্যও গভীর শোকের কারণ হয়েছে। স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে আসা সীমার জীবন শেষ হয়ে যায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনায়। এ ঘটনায় অটোরিকশায় যাতায়াতের সময় ওড়না বা ঢিলেঢালা পোশাকের বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

আরোও পড়ুন – বার্কিপুরে ঘরের ওপর বিদ্যুৎ লাইন, গাছ পড়ে আগুন

⇧