মো: কৌশিক সাজিদ পিয়াল (বিভাগীয় ব্যুরো চীফ)
টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির গৌরবময় ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার প্রত্যয়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জনাব আবু সাঈদ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তিনি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় জেলা শিশু একাডেমির বিভিন্ন বয়সী শিশুদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আসে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। শিশুদের কণ্ঠ, মতামত ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের জন্য আরও নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন শিশুদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিশুদের নিরাপত্তা শুধু ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক বিকাশ এবং নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে এসব বিষয় সামনে আসায় উপস্থিত শিশু, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি এবারের আয়োজনকে দিয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। পাঁচ দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি শিশু-কিশোরদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, নৃত্য, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং তাদের সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। সুবর্ণজয়ন্তীর এই সময়ে শিশুদের জন্য পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরির বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সমাজে শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ, মানসিক সুস্থতা ও সৃজনশীল বিকাশের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আয়োজনে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং জেলা শিশু একাডেমির বিভিন্ন বয়সী শিশুরা অংশ নেয়। শিশুদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন। শিশুদের মধ্যে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আগ্রহ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের অধিকার সম্পর্কে তাদের নিজেদের সচেতন করার পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও সচেতন করা জরুরি। শিশু অধিকার দিবস তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষা ও বিকাশের বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে নতুন করে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে তার জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, সহিংসতা, নির্যাতন, বৈষম্য ও বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির এ আয়োজন থেকে শিশুদের অধিকার ও সম্ভাবনা নিয়ে আরও ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন -:হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ
টাঙ্গাইলে শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি
মো: কৌশিক সাজিদ পিয়াল (বিভাগীয় ব্যুরো চীফ)
টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির গৌরবময় ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার প্রত্যয়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জনাব আবু সাঈদ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তিনি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় জেলা শিশু একাডেমির বিভিন্ন বয়সী শিশুদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে আসে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। শিশুদের কণ্ঠ, মতামত ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের জন্য আরও নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন শিশুদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিশুদের নিরাপত্তা শুধু ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক বিকাশ এবং নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে এসব বিষয় সামনে আসায় উপস্থিত শিশু, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি এবারের আয়োজনকে দিয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। পাঁচ দশকের পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি শিশু-কিশোরদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, নৃত্য, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং তাদের সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিশু অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। সুবর্ণজয়ন্তীর এই সময়ে শিশুদের জন্য পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরির বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সমাজে শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ, মানসিক সুস্থতা ও সৃজনশীল বিকাশের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আয়োজনে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং জেলা শিশু একাডেমির বিভিন্ন বয়সী শিশুরা অংশ নেয়। শিশুদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন। শিশুদের মধ্যে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আগ্রহ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের অধিকার সম্পর্কে তাদের নিজেদের সচেতন করার পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও সচেতন করা জরুরি। শিশু অধিকার দিবস তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষা ও বিকাশের বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে নতুন করে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে তার জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, সহিংসতা, নির্যাতন, বৈষম্য ও বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির এ আয়োজন থেকে শিশুদের অধিকার ও সম্ভাবনা নিয়ে আরও ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন -:হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ