মাভাবিপ্রবি প্রক্টর পদত্যাগ দাবি: প্রশাসনিক ভবনে তালা, উপাচার্য অবরুদ্ধ

মো. জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর পদত্যাগ দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় এবং উপাচার্য কার্যালয় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কিছু শিক্ষককে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ‘সেইফ এক্সিট’ নিশ্চিত করছে। তারা দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাদের বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় প্রক্টর পদত্যাগ দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে এবং শিক্ষার্থীরা এর সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন বর্তমানে ব্যক্তিগত কারণে চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন। তবে নথি বিকৃতির অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি আংশিকভাবে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করলেও বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, একটি কপি আনুষ্ঠানিকভাবে এবং অন্যটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ফরওয়ার্ড করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একটি অনানুষ্ঠানিক কপি রিজেন্ট বোর্ডে গৃহীত হলো—যা প্রক্টর পদত্যাগ দাবিকে আরও তীব্র করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ধারাবাহিক কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের চাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎকালীন রেজিস্ট্রারকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এবং নতুন দায়িত্ব প্রদান করে। তবে গত ৮ মার্চ প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে এবং তখন থেকেই প্রক্টর পদত্যাগ দাবি সামনে আসে। পরদিন জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও ঈদের ছুটি শেষে তা আবারও জোরদার হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একই অভিযোগপত্রের দুটি সংস্করণ তৈরি করে একটি বিকৃত করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়াল করা হয়। স্ট্যাপলার ব্যবহার করে অংশবিশেষ ঢেকে ফটোকপি করার মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি তাদের। এর ফলে রিজেন্ট বোর্ডের বৈঠকে মূল অভিযোগ উপস্থাপিত হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এবং তারা প্রক্টর পদত্যাগ দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচিতে নামেন।

পূর্বেও একাধিকবার অভিযোগ জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ অবস্থায় তারা প্রক্টরের অপসারণ ও সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবিতে আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে এক ছাত্রনেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও শাস্তির হুমকি দেওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে চলমান এই আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। তাদের মতে, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়বে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম জানান, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবি নথি বিকৃতি: প্রক্টর অপসারণে আলটিমেটাম

মাভাবিপ্রবি প্রক্টর পদত্যাগ দাবি: প্রশাসনিক ভবনে তালা, উপাচার্য অবরুদ্ধ

এপ্রিল ৬, ২০২৬

মো. জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর পদত্যাগ দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় এবং উপাচার্য কার্যালয় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কিছু শিক্ষককে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ‘সেইফ এক্সিট’ নিশ্চিত করছে। তারা দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাদের বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় প্রক্টর পদত্যাগ দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে এবং শিক্ষার্থীরা এর সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন বর্তমানে ব্যক্তিগত কারণে চার দিনের ছুটিতে রয়েছেন। তবে নথি বিকৃতির অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি আংশিকভাবে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করলেও বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, একটি কপি আনুষ্ঠানিকভাবে এবং অন্যটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ফরওয়ার্ড করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একটি অনানুষ্ঠানিক কপি রিজেন্ট বোর্ডে গৃহীত হলো—যা প্রক্টর পদত্যাগ দাবিকে আরও তীব্র করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ধারাবাহিক কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের চাপে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎকালীন রেজিস্ট্রারকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এবং নতুন দায়িত্ব প্রদান করে। তবে গত ৮ মার্চ প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে এবং তখন থেকেই প্রক্টর পদত্যাগ দাবি সামনে আসে। পরদিন জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও ঈদের ছুটি শেষে তা আবারও জোরদার হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একই অভিযোগপত্রের দুটি সংস্করণ তৈরি করে একটি বিকৃত করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়াল করা হয়। স্ট্যাপলার ব্যবহার করে অংশবিশেষ ঢেকে ফটোকপি করার মাধ্যমে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি তাদের। এর ফলে রিজেন্ট বোর্ডের বৈঠকে মূল অভিযোগ উপস্থাপিত হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এবং তারা প্রক্টর পদত্যাগ দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচিতে নামেন।

পূর্বেও একাধিকবার অভিযোগ জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এ অবস্থায় তারা প্রক্টরের অপসারণ ও সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবিতে আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে এক ছাত্রনেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও শাস্তির হুমকি দেওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে চলমান এই আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। তাদের মতে, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়বে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম জানান, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে পরিস্থিতি এখনো থমথমে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবি নথি বিকৃতি: প্রক্টর অপসারণে আলটিমেটাম