আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন সিনেটে ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব আবারও ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে আনা এই ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব চতুর্থবারের মতো নাকচ হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫২-৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়, যেখানে রিপাবলিকান সদস্যরা দলীয় অবস্থান ধরে রেখে প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নেন এবং ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগ ব্যর্থ করে দেন।
এই ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব পাস হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হতো না। ডেমোক্র্যাটদের দাবি ছিল, যুদ্ধের লাগাম টেনে এনে সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। তবে রিপাবলিকানরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের হাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। ফলে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং সিনেটে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে।
প্রস্তাবটি ব্যর্থ হলেও ডেমোক্র্যাটরা দমে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। তারা জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে একই ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করা হবে, যাতে প্রতিটি আইনপ্রণেতার অবস্থান জনগণের কাছে পরিষ্কার থাকে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি আইনগত উদ্যোগ নয়, বরং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার একটি কৌশল, যা ভবিষ্যতে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সংঘাত দ্রুত শেষের পথে। তবে বাস্তবে ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে এবং বেশিরভাগ রিপাবলিকান সদস্য এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। এতে করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরিবর্তে আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জশ হলি বলেছেন, দ্রুত এই সংঘাতের অবসান হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে জরুরি। ব্যতিক্রম হিসেবে রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে ইরান যুদ্ধ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে এবং কংগ্রেসের ভূমিকা উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যায় না। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি, ফলে এই সময়সীমা দ্রুত শেষের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং আইনগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন জানিয়েছেন, প্রস্তাব পাস না হলেও তারা এই ইস্যুতে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার ভাষায়, এই ইরান যুদ্ধ প্রস্তাবের মাধ্যমে অন্তত জনগণের সামনে স্পষ্ট করা সম্ভব হবে কে যুদ্ধের পক্ষে এবং কে বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে করে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ আইনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ভিয়েতনাম যুদ্ধের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আইনই আবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এবং ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি ( BBC ) প্রতিবেদন
আরোও পড়ুন – ইরান যুদ্ধ মন্দা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে: বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক করল IMF
ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব আবার নাকচ মার্কিন সিনেটে, দমছে না ডেমোক্র্যাটরা
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন সিনেটে ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব আবারও ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে আনা এই ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব চতুর্থবারের মতো নাকচ হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫২-৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যাত হয়, যেখানে রিপাবলিকান সদস্যরা দলীয় অবস্থান ধরে রেখে প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নেন এবং ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগ ব্যর্থ করে দেন।
এই ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব পাস হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হতো না। ডেমোক্র্যাটদের দাবি ছিল, যুদ্ধের লাগাম টেনে এনে সাংবিধানিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। তবে রিপাবলিকানরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের হাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। ফলে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং সিনেটে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে।
প্রস্তাবটি ব্যর্থ হলেও ডেমোক্র্যাটরা দমে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। তারা জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে একই ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করা হবে, যাতে প্রতিটি আইনপ্রণেতার অবস্থান জনগণের কাছে পরিষ্কার থাকে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি আইনগত উদ্যোগ নয়, বরং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার একটি কৌশল, যা ভবিষ্যতে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সংঘাত দ্রুত শেষের পথে। তবে বাস্তবে ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে এবং বেশিরভাগ রিপাবলিকান সদস্য এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। এতে করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরিবর্তে আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জশ হলি বলেছেন, দ্রুত এই সংঘাতের অবসান হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে জরুরি। ব্যতিক্রম হিসেবে রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একমত হয়ে ইরান যুদ্ধ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে এবং কংগ্রেসের ভূমিকা উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যায় না। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি, ফলে এই সময়সীমা দ্রুত শেষের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং আইনগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন জানিয়েছেন, প্রস্তাব পাস না হলেও তারা এই ইস্যুতে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার ভাষায়, এই ইরান যুদ্ধ প্রস্তাবের মাধ্যমে অন্তত জনগণের সামনে স্পষ্ট করা সম্ভব হবে কে যুদ্ধের পক্ষে এবং কে বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে করে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ আইনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ভিয়েতনাম যুদ্ধের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আইনই আবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এবং ইরান যুদ্ধ প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি ( BBC ) প্রতিবেদন
আরোও পড়ুন – ইরান যুদ্ধ মন্দা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে: বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক করল IMF