দূরন্ত পলাশ এডমিন মাসউদুল গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আটক

নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি : নাহিদ হাসান

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার আলোচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম “দূরন্ত পলাশ” এর প্রধান পরিচালনাকারী ও এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাসউদুল ইসলাম রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পলাশ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাসউদুল ইসলাম রানা (৪৫) পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাগপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার কারণে আলোচনায় আসে দূরন্ত পলাশ এডমিন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণা ও জালিয়াতির একটি মামলায় আদালত মাসউদুল ইসলাম রানাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। আদালতের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পলাশ থানা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তাকে ধরতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। অবশেষে সফল অভিযানে দূরন্ত পলাশ এডমিন মাসউদুলকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “দূরন্ত পলাশ” নামের আইডি ও গ্রুপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও সম্মানিত নাগরিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট প্রচারের অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টাও করা হতো। এ কারণে সংশ্লিষ্ট আইডি ও এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দূরন্ত পলাশ এডমিন গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পলাশ থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর মাসউদুল ইসলাম রানাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য প্রচার কিংবা সম্মানহানির মতো অভিযোগে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে গুজব বা অপপ্রচার চালানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে নরসিংদী আদালতে সোপর্দ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীলভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের আহ্বানও জানানো হয়েছে। এদিকে দূরন্ত পলাশ এডমিন গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আরোও পড়ুন –আইনের আওতায় টিকটক – রীলসে নিজেদের প্রদর্শন করা দোলা মল্লিক ও তার সহযোগী সদস্যরা

দূরন্ত পলাশ এডমিন মাসউদুল গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আটক

মে ৮, ২০২৬

নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি : নাহিদ হাসান

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার আলোচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম “দূরন্ত পলাশ” এর প্রধান পরিচালনাকারী ও এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাসউদুল ইসলাম রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পলাশ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাসউদুল ইসলাম রানা (৪৫) পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাগপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার কারণে আলোচনায় আসে দূরন্ত পলাশ এডমিন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণা ও জালিয়াতির একটি মামলায় আদালত মাসউদুল ইসলাম রানাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। আদালতের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পলাশ থানা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তাকে ধরতে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। অবশেষে সফল অভিযানে দূরন্ত পলাশ এডমিন মাসউদুলকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “দূরন্ত পলাশ” নামের আইডি ও গ্রুপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও সম্মানিত নাগরিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট প্রচারের অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টাও করা হতো। এ কারণে সংশ্লিষ্ট আইডি ও এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দূরন্ত পলাশ এডমিন গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পলাশ থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর মাসউদুল ইসলাম রানাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য প্রচার কিংবা সম্মানহানির মতো অভিযোগে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে গুজব বা অপপ্রচার চালানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে নরসিংদী আদালতে সোপর্দ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীলভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের আহ্বানও জানানো হয়েছে। এদিকে দূরন্ত পলাশ এডমিন গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

আরোও পড়ুন –আইনের আওতায় টিকটক – রীলসে নিজেদের প্রদর্শন করা দোলা মল্লিক ও তার সহযোগী সদস্যরা