আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৮ মে, ২০২৬
পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে আবারও ভয়াবহ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নৌবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হরমুজ প্রণালী শুধুমাত্র একটি জলপথ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট স্পিডবোট ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এই ঘটনাকে “উস্কানিহীন আক্রমণ” বলে আখ্যা দেয় এবং তাৎক্ষণিক পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এই সংঘর্ষের কারণে হরমুজ প্রণালী এলাকায় নৌ চলাচলে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ে।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে তাদের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তেহরানের অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল বান্দর খামির, সিরিক এবং কেশম দ্বীপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইরান যদি দ্রুত শান্তি চুক্তিতে না আসে, তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করতে পারে। তবে ইরান এই প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা দাবি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের শর্ত উপেক্ষা করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এলাকায়।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলি সূত্র জানায়, এই সংঘর্ষে তাদের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন নতুন করে যুদ্ধের কালো মেঘ জমছে, আর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগত এই হরমুজ প্রণালী।
আরোও পড়ুন – ইরানের পাল্টা হামলার হুমকি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া
হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে উত্তেজনা, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৮ মে, ২০২৬
পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে আবারও ভয়াবহ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নৌবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হরমুজ প্রণালী শুধুমাত্র একটি জলপথ নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট স্পিডবোট ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এই ঘটনাকে “উস্কানিহীন আক্রমণ” বলে আখ্যা দেয় এবং তাৎক্ষণিক পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এই সংঘর্ষের কারণে হরমুজ প্রণালী এলাকায় নৌ চলাচলে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ে।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে তাদের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তেহরানের অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল বান্দর খামির, সিরিক এবং কেশম দ্বীপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইরান যদি দ্রুত শান্তি চুক্তিতে না আসে, তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করতে পারে। তবে ইরান এই প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা দাবি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের শর্ত উপেক্ষা করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী এলাকায়।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলি সূত্র জানায়, এই সংঘর্ষে তাদের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন নতুন করে যুদ্ধের কালো মেঘ জমছে, আর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগত এই হরমুজ প্রণালী।
আরোও পড়ুন – ইরানের পাল্টা হামলার হুমকি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া