বাগেরহাট-৪ আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির তৃণমূলে অসন্তোষের ঢেউ

এনায়েত করিম রাজিব
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের তৃণমূল পর্যায়ে চরম অসন্তোষ, হতাশা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় মনোনয়ন ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় চায়ের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং রাজনৈতিক আড্ডায় প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে যারা মাঠপর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে দলকে সংগঠিত রেখেছেন, তাদের উপেক্ষা করে সদ্য দলে যোগ দেওয়া একজন ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া তৃণমূলের জন্য হতাশাজনক। এতে করে দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে।
স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন ফরম ক্রয়ের আলোচনায় যাঁর নাম সামনে এসেছে, তিনি অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার ইতিহাস থাকা একজন নেতাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় আনার খবরে কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে যারা মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারাই এবার অগ্রাধিকার পাবেন।
এই প্রেক্ষাপটে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদী কর্মসূচির ঘটনাও ঘটেছে। বনগ্রাম ইউনিয়নের নব্বইরশী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করেন। কর্মীদের বক্তব্যে উঠে আসে, ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত নেতৃত্ব ছাড়া এই আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের একাধিক পরিচিত নেতা। তাঁদের অনেকেই দলীয় দুঃসময়ে একাধিক মামলার সম্মুখীন হয়েছেন, কারাভোগ করেছেন এবং আত্মগোপনে থেকেও দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয় নেতাদের দাবি, এই ধরনের ত্যাগী নেতৃত্বই তৃণমূল কর্মীদের আস্থা ও সাধারণ মানুষের সমর্থন অর্জনে সক্ষম।
এ আসনটি উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় রাজনৈতিক বাস্তবতা এখানে ভিন্ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উন্নয়ন ঘাটতি ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তৃণমূল নেতারা মনে করছেন, জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব প্রার্থী মনোনয়ন পেলে এই ক্ষোভকে বিএনপির পক্ষে ভোটে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। অতীতে এই আসনে বিএনপি কখনো বিজয় অর্জন করতে না পারলেও এবার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তা শুধু একটি আসনের ফলাফল নয়, বরং সাংগঠনিক ঐক্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড পর্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তের দাবি উঠেছে।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পক্ষ থেকে দলের প্রতি আনুগত্য ও ঐক্যের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, দলের স্বার্থে তারা মাঠে কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে একই সঙ্গে ত্যাগ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের যথাযথ মূল্যায়নের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রাথমিকভাবে আলোচনায় থাকা প্রার্থী নিজেকে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার দাবি করে বলেছেন, তার মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি তোলা একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্রতিক্রিয়া। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষ তার পক্ষে রয়েছে এবং দলীয় নেতৃত্ব সবকিছু জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সব মিলিয়ে বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রশ্ন এখন শুধু প্রার্থী নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে তৃণমূলের আস্থা, ত্যাগের মূল্যায়ন ও সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় রাজনৈতিক আলোচনায়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা এলাকা।

বাগেরহাট-৪ আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির তৃণমূলে অসন্তোষের ঢেউ

ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

এনায়েত করিম রাজিব
বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের তৃণমূল পর্যায়ে চরম অসন্তোষ, হতাশা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় মনোনয়ন ঘিরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় চায়ের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং রাজনৈতিক আড্ডায় প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে যারা মাঠপর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে দলকে সংগঠিত রেখেছেন, তাদের উপেক্ষা করে সদ্য দলে যোগ দেওয়া একজন ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া তৃণমূলের জন্য হতাশাজনক। এতে করে দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে।
স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন ফরম ক্রয়ের আলোচনায় যাঁর নাম সামনে এসেছে, তিনি অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার ইতিহাস থাকা একজন নেতাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় আনার খবরে কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে যারা মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারাই এবার অগ্রাধিকার পাবেন।
এই প্রেক্ষাপটে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদী কর্মসূচির ঘটনাও ঘটেছে। বনগ্রাম ইউনিয়নের নব্বইরশী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করেন। কর্মীদের বক্তব্যে উঠে আসে, ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত নেতৃত্ব ছাড়া এই আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের একাধিক পরিচিত নেতা। তাঁদের অনেকেই দলীয় দুঃসময়ে একাধিক মামলার সম্মুখীন হয়েছেন, কারাভোগ করেছেন এবং আত্মগোপনে থেকেও দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন। স্থানীয় নেতাদের দাবি, এই ধরনের ত্যাগী নেতৃত্বই তৃণমূল কর্মীদের আস্থা ও সাধারণ মানুষের সমর্থন অর্জনে সক্ষম।
এ আসনটি উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় রাজনৈতিক বাস্তবতা এখানে ভিন্ন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উন্নয়ন ঘাটতি ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তৃণমূল নেতারা মনে করছেন, জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব প্রার্থী মনোনয়ন পেলে এই ক্ষোভকে বিএনপির পক্ষে ভোটে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। অতীতে এই আসনে বিএনপি কখনো বিজয় অর্জন করতে না পারলেও এবার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তা শুধু একটি আসনের ফলাফল নয়, বরং সাংগঠনিক ঐক্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড পর্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তের দাবি উঠেছে।
এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পক্ষ থেকে দলের প্রতি আনুগত্য ও ঐক্যের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, দলের স্বার্থে তারা মাঠে কাজ চালিয়ে যাবেন। তবে একই সঙ্গে ত্যাগ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের যথাযথ মূল্যায়নের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রাথমিকভাবে আলোচনায় থাকা প্রার্থী নিজেকে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার দাবি করে বলেছেন, তার মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি তোলা একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্রতিক্রিয়া। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষ তার পক্ষে রয়েছে এবং দলীয় নেতৃত্ব সবকিছু জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সব মিলিয়ে বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রশ্ন এখন শুধু প্রার্থী নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে তৃণমূলের আস্থা, ত্যাগের মূল্যায়ন ও সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় রাজনৈতিক আলোচনায়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা এলাকা।