নাটকীয় সিদ্ধান্তের অবসান, মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দীর্ঘ নাটকীয়তা ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তির অবসানের মধ্য দিয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দলের প্রাথমিক পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৫ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয় এবং তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদে বহাল রাখা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দলীয় অবস্থান সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

মনিরুল আলম সেন্টুর রাজনৈতিক জীবনে বহিষ্কার ও পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন নয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই সময় থেকে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের বাইরে থাকলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের শুরুতে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে, অর্থাৎ ২ জানুয়ারি ২০২৫ (শুক্রবার) বিএনপির পক্ষ থেকে আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, পূর্বের বিজ্ঞপ্তিটি ভুলবশত প্রকাশিত হয়েছিল এবং মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে। এই পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

একই বিষয়ে একাধিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয় এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়। অনেকেই একে নির্বাচন-পূর্ব দলীয় সমন্বয়ের জটিলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এই অবস্থার মধ্যেই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হিসেবে ২০ জানুয়ারি ২০২৫ (মঙ্গলবার) নতুন করে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে প্রাথমিক পদে বহাল রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আগের সব বিভ্রান্তির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের রাজনীতিতে মনিরুল আলম সেন্টুর প্রভাব, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা দলকে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় বিএনপির একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিন পর এই পুনর্বহাল দলীয় ঐক্য জোরদার করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শক্তি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করছে।

সব মিলিয়ে, একাধিক তারিখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও পুনঃঘোষণার মধ্য দিয়ে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক অধ্যায় হয়ে উঠেছে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আরোও পড়ুন – মনিরুল আলম সেন্টুকে নিয়ে বিএনপিতে সিদ্ধান্তের নাটকীয় মোড়

নাটকীয় সিদ্ধান্তের অবসান, মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

জানুয়ারি ২০, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দীর্ঘ নাটকীয়তা ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তির অবসানের মধ্য দিয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দলের প্রাথমিক পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৫ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয় এবং তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদে বহাল রাখা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দলীয় অবস্থান সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।

মনিরুল আলম সেন্টুর রাজনৈতিক জীবনে বহিষ্কার ও পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন নয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই সময় থেকে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের বাইরে থাকলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের শুরুতে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে, অর্থাৎ ২ জানুয়ারি ২০২৫ (শুক্রবার) বিএনপির পক্ষ থেকে আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, পূর্বের বিজ্ঞপ্তিটি ভুলবশত প্রকাশিত হয়েছিল এবং মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে। এই পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

একই বিষয়ে একাধিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয় এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পায়। অনেকেই একে নির্বাচন-পূর্ব দলীয় সমন্বয়ের জটিলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এই অবস্থার মধ্যেই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হিসেবে ২০ জানুয়ারি ২০২৫ (মঙ্গলবার) নতুন করে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে প্রাথমিক পদে বহাল রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আগের সব বিভ্রান্তির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের রাজনীতিতে মনিরুল আলম সেন্টুর প্রভাব, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা দলকে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় বিএনপির একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিন পর এই পুনর্বহাল দলীয় ঐক্য জোরদার করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শক্তি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করছে।

সব মিলিয়ে, একাধিক তারিখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ও পুনঃঘোষণার মধ্য দিয়ে মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক অধ্যায় হয়ে উঠেছে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আরোও পড়ুন – মনিরুল আলম সেন্টুকে নিয়ে বিএনপিতে সিদ্ধান্তের নাটকীয় মোড়