রাউজানে গীতা আবৃত্তি ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, সম্বর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান, যা আয়োজিত হয় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এম জে স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন গীতা শিক্ষালয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থল মুখর হয়ে ওঠে। উদ্বোধনী পর্বে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই মহতী আয়োজন, যা ধর্মীয় চেতনা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করে।

দিনব্যাপী আয়োজিত গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান-এ ছিল শ্রীমদ্ভগবদগীতা আবৃত্তি, নৃত্য প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংবর্ধনা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। উপজেলার বিভিন্ন গীতা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে আবৃত্তি ও নৃত্যে। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের জন্য ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ ও শ্রদ্ধা তুলে ধরে, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমাজহিতৈষী অরুণ পালিত বাসু এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশগুপ্ত। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠক রাখাশ সরকার ও শিক্ষক সুজন দাশ। প্রধান আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর গুজরা অন্নদা ঠাকুর আদ্যাপীঠের প্রধান পৌরহিত শ্রী তপন চক্রবর্ত্তী। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত থেকে আগত সন্ন্যাসী শ্রীকৃষ্ণ দাস বাবাজী মহারাজসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বিএনপি এবং স্থানীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি নতুন প্রজন্মের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আকাশ দেবনাথ, বটন দেবনাথ, অর্পন মহাজন রিপু, সুমন চৌধুরী ও দীপান্বিতা চৌধুরী। যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন সুমঙ্গল চক্রবর্তীসহ একদল দক্ষ শিল্পী। সার্বিক আয়োজনে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করে ফটিকছড়ির অডিও সাউন্ড টিম। সুষ্ঠু ও সুন্দর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যা আয়োজকদের দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।

দিনব্যাপী এই গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি গীতা বিদ্যাপীঠ, ১২টি নৃত্য শিক্ষালয় এবং প্রায় ২০টি সংগঠনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি গীতা প্রশিক্ষক ও সনাতনী গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মাননা জানানো হয়। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মঠ-মন্দিরের সাধু-সন্ত, শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও সফল।

সবশেষে অংশগ্রহণকারী ও অতিথিরা এই আয়োজনকে একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা হলে তা ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরোও পড়ুন – রাউজান গীতা প্রতিযোগিতা ১০ এপ্রিল: আবৃত্তি, নৃত্য ও পুরস্কার বিতরণ

রাউজানে গীতা আবৃত্তি ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, সম্বর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

এপ্রিল ১১, ২০২৬

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান, যা আয়োজিত হয় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এম জে স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন গীতা শিক্ষালয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থল মুখর হয়ে ওঠে। উদ্বোধনী পর্বে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই মহতী আয়োজন, যা ধর্মীয় চেতনা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করে।

দিনব্যাপী আয়োজিত গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান-এ ছিল শ্রীমদ্ভগবদগীতা আবৃত্তি, নৃত্য প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংবর্ধনা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। উপজেলার বিভিন্ন গীতা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে আবৃত্তি ও নৃত্যে। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের জন্য ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের আগ্রহ ও শ্রদ্ধা তুলে ধরে, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমাজহিতৈষী অরুণ পালিত বাসু এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশগুপ্ত। যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠক রাখাশ সরকার ও শিক্ষক সুজন দাশ। প্রধান আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর গুজরা অন্নদা ঠাকুর আদ্যাপীঠের প্রধান পৌরহিত শ্রী তপন চক্রবর্ত্তী। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত থেকে আগত সন্ন্যাসী শ্রীকৃষ্ণ দাস বাবাজী মহারাজসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বিএনপি এবং স্থানীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি নতুন প্রজন্মের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আকাশ দেবনাথ, বটন দেবনাথ, অর্পন মহাজন রিপু, সুমন চৌধুরী ও দীপান্বিতা চৌধুরী। যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন সুমঙ্গল চক্রবর্তীসহ একদল দক্ষ শিল্পী। সার্বিক আয়োজনে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করে ফটিকছড়ির অডিও সাউন্ড টিম। সুষ্ঠু ও সুন্দর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যা আয়োজকদের দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।

দিনব্যাপী এই গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি গীতা বিদ্যাপীঠ, ১২টি নৃত্য শিক্ষালয় এবং প্রায় ২০টি সংগঠনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি গীতা প্রশিক্ষক ও সনাতনী গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মাননা জানানো হয়। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মঠ-মন্দিরের সাধু-সন্ত, শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও সফল।

সবশেষে অংশগ্রহণকারী ও অতিথিরা এই আয়োজনকে একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, গীতা প্রতিযোগিতা রাউজান ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা হলে তা ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরোও পড়ুন – রাউজান গীতা প্রতিযোগিতা ১০ এপ্রিল: আবৃত্তি, নৃত্য ও পুরস্কার বিতরণ