আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরান যুদ্ধ মন্দা ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বাড়লে এই ইরান যুদ্ধ মন্দা পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যদি তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম চলতি বছর এবং আগামী বছরজুড়ে উচ্চ অবস্থানে থাকে, তবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি ইতিহাসে বিরল এবং এটি কার্যত একটি বৈশ্বিক মন্দার পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধ মন্দা ঝুঁকি বাস্তবে রূপ নিলে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইরান যুদ্ধ মন্দা আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে ২০২৬ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার এবং ২০২৭ সালে তা ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর, যা আগামী বছর ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে, যা ঋণ গ্রহণ ও বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও মন্থর করে দেবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৮৫ ডলারে নেমে এলেও অস্থিরতা এখনো কাটেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতের স্থায়ী সমাধান না হলে বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইএমএফ জানিয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ২০২৬ সালে প্রায় ৬.১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। তবে সংঘাত দ্রুত শেষ হলে ২০২৭ সালে দেশটি পুনরুদ্ধার করে ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। একইভাবে কাতারের বৃহত্তম এলএনজি শোধনাগারে হামলার কারণে দেশটির অর্থনীতি ৮.৬ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাতের সমাধান হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তাহলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যদিও এটি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা কম, তবুও এটি বড় ধরনের মন্দা এড়াতে সহায়ক হবে।
সবশেষে সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সময়মতো কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে ইরান যুদ্ধ মন্দা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি (BBC) প্রতিবেদন অবলম্বনে।
আরোও পড়ুন – ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক ব্যর্থ: ভেস্তে গেল মার্কিন-ইরান আলোচনা, কারণ কী?
ইরান যুদ্ধ মন্দা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে: বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক করল IMF
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরান যুদ্ধ মন্দা ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটির সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বাড়লে এই ইরান যুদ্ধ মন্দা পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যদি তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম চলতি বছর এবং আগামী বছরজুড়ে উচ্চ অবস্থানে থাকে, তবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি ইতিহাসে বিরল এবং এটি কার্যত একটি বৈশ্বিক মন্দার পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধ মন্দা ঝুঁকি বাস্তবে রূপ নিলে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইরান যুদ্ধ মন্দা আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে ২০২৬ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার এবং ২০২৭ সালে তা ১২৫ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর, যা আগামী বছর ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে, যা ঋণ গ্রহণ ও বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও মন্থর করে দেবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৮৫ ডলারে নেমে এলেও অস্থিরতা এখনো কাটেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতের স্থায়ী সমাধান না হলে বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইএমএফ জানিয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ২০২৬ সালে প্রায় ৬.১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। তবে সংঘাত দ্রুত শেষ হলে ২০২৭ সালে দেশটি পুনরুদ্ধার করে ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। একইভাবে কাতারের বৃহত্তম এলএনজি শোধনাগারে হামলার কারণে দেশটির অর্থনীতি ৮.৬ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছে আইএমএফ। সংস্থাটি বলছে, যদি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাতের সমাধান হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তাহলে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যদিও এটি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা কম, তবুও এটি বড় ধরনের মন্দা এড়াতে সহায়ক হবে।
সবশেষে সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সময়মতো কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে ইরান যুদ্ধ মন্দা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি (BBC) প্রতিবেদন অবলম্বনে।
আরোও পড়ুন – ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক ব্যর্থ: ভেস্তে গেল মার্কিন-ইরান আলোচনা, কারণ কী?