শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
আজ ২০ এপ্রিল, সোমবার সকালে ঢাকার দোহার উপজেলায় শিশুদের সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যাপক আয়োজনে শুরু হয়েছে “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচি। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর ও জনসচেতনতামূলক। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা যায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম। তিনি ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে “হাম-রুবেলা টিকা” কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সন্তানদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রকিবুল ইসলাম, যিনি স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে এই উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইয়াহিয়া হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বক্তারা বলেন, “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচি শুধু একটি স্বাস্থ্য উদ্যোগ নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব, যার মাধ্যমে শিশুদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তারা আরও জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাম ও রুবেলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সময়মতো “হাম-রুবেলা টিকা” প্রদান করা না হলে শিশুদের নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়সসীমার সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, টিকা গ্রহণের মাধ্যমে একটি শিশুকে শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেও সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক চিকিৎসক জানান, “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অভিভাবকদের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই সকাল থেকেই তাদের সন্তানদের নিয়ে টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত হন। একাধিক অভিভাবক জানান, তারা আগে থেকেই “হাম-রুবেলা টিকা” সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং এই কর্মসূচি তাদের জন্য একটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, এই “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট বয়সসীমার শিশুদের বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হবে। কোনো ধরনের ফি বা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সকল শিশুকে এই সেবার আওতায় আনা হচ্ছে। কর্মসূচিটি সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং কোনো শিশুই টিকার বাইরে না থাকে।
এছাড়া, প্রচারণার অংশ হিসেবে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করেন, এসব উদ্যোগের ফলে “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচি আরও সফল হবে এবং জনগণের মধ্যে টিকা বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে। তারা অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সবশেষে, সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচি দোহারে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ উদ্বোধন
দোহারে হাম-রুবেলা টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন, শিশুদের সুরক্ষায় ব্যাপক উদ্যোগ
শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার
আজ ২০ এপ্রিল, সোমবার সকালে ঢাকার দোহার উপজেলায় শিশুদের সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যাপক আয়োজনে শুরু হয়েছে “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচি। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর ও জনসচেতনতামূলক। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা যায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম। তিনি ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে “হাম-রুবেলা টিকা” কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সন্তানদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করেন। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রকিবুল ইসলাম, যিনি স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে এই উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ইয়াহিয়া হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বক্তারা বলেন, “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচি শুধু একটি স্বাস্থ্য উদ্যোগ নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব, যার মাধ্যমে শিশুদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তারা আরও জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাম ও রুবেলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সময়মতো “হাম-রুবেলা টিকা” প্রদান করা না হলে শিশুদের নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণ এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়সসীমার সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, টিকা গ্রহণের মাধ্যমে একটি শিশুকে শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেও সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক চিকিৎসক জানান, “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অভিভাবকদের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই সকাল থেকেই তাদের সন্তানদের নিয়ে টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত হন। একাধিক অভিভাবক জানান, তারা আগে থেকেই “হাম-রুবেলা টিকা” সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং এই কর্মসূচি তাদের জন্য একটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, এই “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট বয়সসীমার শিশুদের বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হবে। কোনো ধরনের ফি বা অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সকল শিশুকে এই সেবার আওতায় আনা হচ্ছে। কর্মসূচিটি সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং কোনো শিশুই টিকার বাইরে না থাকে।
এছাড়া, প্রচারণার অংশ হিসেবে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করেন, এসব উদ্যোগের ফলে “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচি আরও সফল হবে এবং জনগণের মধ্যে টিকা বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে। তারা অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সবশেষে, সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই “হাম-রুবেলা টিকা” কর্মসূচি দোহারে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ উদ্বোধন