পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে জামায়াতের বিক্ষোভ

৪২

এস আলম, শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠা নিয়ে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রীমঙ্গল উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশ থেকে ওই দিনের ঘটনায় নিহত শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম, শহীদ গোলাম কিবরিয়া শিপনসহ অন্য নিহতদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

বুধবার বাদ মাগরিব শ্রীমঙ্গল-হবিগঞ্জ সড়কের কাঁচারি জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার অবসানের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিচার দাবি করে আসা পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি তারেক মাহফুজ। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আশরাফুল ইসলাম কামরুল, কর্মপরিষদ সদস্য মনির মিয়া এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি সফিজ উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিচার চাই’, ‘লগি-বৈঠার রাজনীতি চলবে না, চলবে না’, ‘মানুষ হত্যার রাজনীতি চলবে না’ এবং ‘বিচারহীনতার রাজনীতি চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ ছাড়া ‘দালালি নয়, রাজপথ—রাজপথ’, ‘দিল্লি নয়, ঢাকা—ঢাকা’, ‘আপস নয়, সংগ্রাম—সংগ্রাম’ এবং ‘অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে’ বলেও স্লোগান দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে যেকোনো হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো তাঁদের কাছে গভীরভাবে বেদনাদায়ক। তাঁদের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর দেশে রাজনৈতিক সংঘাত, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়া এবং নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁরা আরও দাবি করেন, ঘটনার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়নি। বক্তাদের মতে, পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হলে নিহতদের পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় মামলা করা হলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলার নথিপত্র নিখোঁজ হয়ে যায়। এসব বক্তব্য সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাদের অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বক্তারা বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রাজনৈতিক বিবেচনায় উপেক্ষা করা উচিত নয়; বরং প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে বিচার সম্পন্ন করা প্রয়োজন। তাঁদের ভাষ্য, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ বিচারহীনতার রাজনীতি দেখতে চায় না। বক্তব্যের শেষে তাঁরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নিহতদের পরিবারের প্রতি সুবিচার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আরোও পড়ুন – সিলেট সীমান্তে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শ্রীমঙ্গলে জামায়াতের বিক্ষোভ

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
৪২

এস আলম, শ্রীমঙ্গল(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠা নিয়ে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রীমঙ্গল উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশ থেকে ওই দিনের ঘটনায় নিহত শহীদ মুজাহিদুল ইসলাম, শহীদ গোলাম কিবরিয়া শিপনসহ অন্য নিহতদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

বুধবার বাদ মাগরিব শ্রীমঙ্গল-হবিগঞ্জ সড়কের কাঁচারি জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার অবসানের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিচার দাবি করে আসা পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি তারেক মাহফুজ। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আশরাফুল ইসলাম কামরুল, কর্মপরিষদ সদস্য মনির মিয়া এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি সফিজ উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, ওই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিচার চাই’, ‘লগি-বৈঠার রাজনীতি চলবে না, চলবে না’, ‘মানুষ হত্যার রাজনীতি চলবে না’ এবং ‘বিচারহীনতার রাজনীতি চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ ছাড়া ‘দালালি নয়, রাজপথ—রাজপথ’, ‘দিল্লি নয়, ঢাকা—ঢাকা’, ‘আপস নয়, সংগ্রাম—সংগ্রাম’ এবং ‘অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে’ বলেও স্লোগান দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে যেকোনো হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো তাঁদের কাছে গভীরভাবে বেদনাদায়ক। তাঁদের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর দেশে রাজনৈতিক সংঘাত, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়া এবং নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁরা আরও দাবি করেন, ঘটনার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়নি। বক্তাদের মতে, পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হলে নিহতদের পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় মামলা করা হলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় এবং মামলার নথিপত্র নিখোঁজ হয়ে যায়। এসব বক্তব্য সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাদের অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বক্তারা বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছেন। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের আহ্বান জানান।

সমাবেশ থেকে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রাজনৈতিক বিবেচনায় উপেক্ষা করা উচিত নয়; বরং প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে বিচার সম্পন্ন করা প্রয়োজন। তাঁদের ভাষ্য, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ বিচারহীনতার রাজনীতি দেখতে চায় না। বক্তব্যের শেষে তাঁরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নিহতদের পরিবারের প্রতি সুবিচার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আরোও পড়ুন – সিলেট সীমান্তে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ

⇧