কালিহাতীতে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলার আসামি রনি ঢাকায় গ্রেপ্তার

৩২

মোঃ আমিনুল ইসলাম,চীফ রিপোর্টারঃ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোঃ রনিকে (২০) ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে এসআরবি-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এবং এসআরবি-১, সিপিসি-২, উত্তরা ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার রনি টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তার এড়িয়ে পলাতক ছিলেন বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ ও শিশুর বক্তব্য

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় বসবাস করেন। এ কারণে তাঁদের আট বছর বয়সী মেয়ে গ্রামের বাড়িতে নানির কাছে থাকত এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শিশুটির মামাতো ভাই মোবাইল ফোনে গেম ও ভিডিও দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের এসব বিষয় আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে মামলার অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

যেভাবে প্রকাশ পায় নির্যাতনের অভিযোগ

এজাহারে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসায় ছুটি হলে শিশুটি ঢাকায় তার বাবা-মায়ের কাছে চলে যায়। পরে ছুটি শেষে তাকে আবার নানির কাছে পাঠানোর কথা বলা হলে সে সেখানে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। মেয়ের অনীহার কারণ জানতে চাইলে একপর্যায়ে সে বাবা-মায়ের কাছে তার মামাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ করে। এরপর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিশুটির পরিচয় সুরক্ষিত রাখা এবং তার প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করা জরুরি।

কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের

শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২৩ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। ওই মামলায় রনিকে প্রধান আসামি করা হয়। ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-এর অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত। তবে মামলার এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগ, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত বিষয় এক নয়। তাই তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।

যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার

এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কালিহাতী থানার মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল ও ঢাকার উত্তরা এলাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিট যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে রনিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে অভিযানের বিস্তারিত স্থান, গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে কোনো আলামত উদ্ধার হয়েছে কি না এবং পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া

গ্রেপ্তারের পর মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট থানা ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। শিশুর প্রতি নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত, প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত অধিকার ও ন্যায়বিচারের নীতিও বজায় রাখতে হবে। ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামির গ্রেপ্তার তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার তদন্ত, আদালতের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী অগ্রগতি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরোও পড়ুন – ফাইতংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৩ মামলায় ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

কালিহাতীতে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলার আসামি রনি ঢাকায় গ্রেপ্তার

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
৩২

মোঃ আমিনুল ইসলাম,চীফ রিপোর্টারঃ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোঃ রনিকে (২০) ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে এসআরবি-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল এবং এসআরবি-১, সিপিসি-২, উত্তরা ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার রনি টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তার এড়িয়ে পলাতক ছিলেন বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ ও শিশুর বক্তব্য

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় বসবাস করেন। এ কারণে তাঁদের আট বছর বয়সী মেয়ে গ্রামের বাড়িতে নানির কাছে থাকত এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে শিশুটির মামাতো ভাই মোবাইল ফোনে গেম ও ভিডিও দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের এসব বিষয় আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে মামলার অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

যেভাবে প্রকাশ পায় নির্যাতনের অভিযোগ

এজাহারে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসায় ছুটি হলে শিশুটি ঢাকায় তার বাবা-মায়ের কাছে চলে যায়। পরে ছুটি শেষে তাকে আবার নানির কাছে পাঠানোর কথা বলা হলে সে সেখানে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। মেয়ের অনীহার কারণ জানতে চাইলে একপর্যায়ে সে বাবা-মায়ের কাছে তার মামাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ করে। এরপর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক সুস্থতা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিশুটির পরিচয় সুরক্ষিত রাখা এবং তার প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করা জরুরি।

কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের

শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ২৩ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। ওই মামলায় রনিকে প্রধান আসামি করা হয়। ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-এর অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত। তবে মামলার এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগ, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত বিষয় এক নয়। তাই তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।

যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার

এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুন, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কালিহাতী থানার মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে টাঙ্গাইল ও ঢাকার উত্তরা এলাকার সংশ্লিষ্ট ইউনিট যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে রনিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে অভিযানের বিস্তারিত স্থান, গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে কোনো আলামত উদ্ধার হয়েছে কি না এবং পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া

গ্রেপ্তারের পর মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট থানা ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। শিশুর প্রতি নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত, প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত অধিকার ও ন্যায়বিচারের নীতিও বজায় রাখতে হবে। ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামির গ্রেপ্তার তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার তদন্ত, আদালতের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী অগ্রগতি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরোও পড়ুন – ফাইতংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৩ মামলায় ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

⇧