নাগেশ্বরীতে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিল, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা সাইফুর রহমান রানার

৪৭

নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, নুরুন্নবী মিয়া:

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাগেশ্বরী উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, তাঁতী দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা ও পৌর শহরে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। পরে মিছিল শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বক্তব্য দেন নেতারা।

আনন্দ মিছিলে নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী দুলালসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক ঐক্যের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুর রহমান রানা। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগেশ্বরী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. নুরুজ্জামাল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতারা দায়িত্ব পালন করেন।

সুবিধাবাদী নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুর রহমান রানা বলেন, যারা সুবিধাবাদী মনোভাব নিয়ে বিএনপিতে অবস্থান করছেন, তাদের সতর্ক হতে হবে। দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করা কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন নিজের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা না করেন। দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও জনসাধারণের কাছে জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

তারেক রহমানের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাইফুর রহমান রানা বলেন, তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তাই দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িত হলে তাকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে অন্যায় করার সুযোগ দিতে পারে না। তাঁর মতে, সংগঠনের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত আচরণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; নিজেদের কর্মকাণ্ডেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না। দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাইকে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংগঠনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাও নেতাকর্মীদের দায়িত্ব। তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে দলীয় শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত সততার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আহ্বান উঠে আসে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সাইফুর রহমান রানা বলেন, তিনি ১০ বছর যুবদলের সভাপতি এবং ২২ বছর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নেতাকর্মীদের সংগঠনের মর্যাদা রক্ষা এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা প্রত্যেক নেতাকর্মীর দায়িত্ব। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।

যুবদলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের শক্তি বাড়াতে নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত বিরোধ বা স্বার্থের চেয়ে সাংগঠনিক লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এ বিষয়গুলো নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হয়।

সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান

সভাপতির বক্তব্যে নাগেশ্বরী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. নুরুজ্জামাল হক বলেন, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংগঠনের জন্য একটি গৌরবের দিন। দলের আদর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য মো. মিনহাজুর রহমান মিনহাজ বলেন, নাগেশ্বরীতে যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কোনো ধরনের অসাংগঠনিক মন্তব্য করা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের ঐক্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে বক্তব্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সাংগঠনিক সমালোচনার জবাব শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল উপায়ে দেওয়ার গুরুত্বও প্রাসঙ্গিক।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সংগঠনের ইতিহাস, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুবসমাজের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দায়িত্ব, দলীয় আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো সামনে আনার সুযোগ তৈরি হয় বলে আয়োজকদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলে নাগেশ্বরী উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ কর্মসূচিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। প্রধান অতিথি সাইফুর রহমান রানার বক্তব্যে দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল না করার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে উঠে আসে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীর শান্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি মাহফুজুর রহমান রিটনের

নাগেশ্বরীতে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিল, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা সাইফুর রহমান রানার

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
৪৭

নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, নুরুন্নবী মিয়া:

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাগেশ্বরী উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, তাঁতী দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলা ও পৌর শহরে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। পরে মিছিল শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বক্তব্য দেন নেতারা।

আনন্দ মিছিলে নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী দুলালসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক ঐক্যের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুর রহমান রানা। সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগেশ্বরী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. নুরুজ্জামাল হক। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতারা দায়িত্ব পালন করেন।

সুবিধাবাদী নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুর রহমান রানা বলেন, যারা সুবিধাবাদী মনোভাব নিয়ে বিএনপিতে অবস্থান করছেন, তাদের সতর্ক হতে হবে। দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করা কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন নিজের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা না করেন। দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও জনসাধারণের কাছে জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

তারেক রহমানের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাইফুর রহমান রানা বলেন, তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তাই দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িত হলে তাকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে অন্যায় করার সুযোগ দিতে পারে না। তাঁর মতে, সংগঠনের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত আচরণ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; নিজেদের কর্মকাণ্ডেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না। দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাইকে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংগঠনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাও নেতাকর্মীদের দায়িত্ব। তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে দলীয় শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত সততার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আহ্বান উঠে আসে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সাইফুর রহমান রানা বলেন, তিনি ১০ বছর যুবদলের সভাপতি এবং ২২ বছর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নেতাকর্মীদের সংগঠনের মর্যাদা রক্ষা এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা প্রত্যেক নেতাকর্মীর দায়িত্ব। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।

যুবদলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের শক্তি বাড়াতে নেতাকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত বিরোধ বা স্বার্থের চেয়ে সাংগঠনিক লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এ বিষয়গুলো নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হয়।

সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান

সভাপতির বক্তব্যে নাগেশ্বরী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. নুরুজ্জামাল হক বলেন, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সংগঠনের জন্য একটি গৌরবের দিন। দলের আদর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি নেতাকর্মীদের সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য মো. মিনহাজুর রহমান মিনহাজ বলেন, নাগেশ্বরীতে যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কোনো ধরনের অসাংগঠনিক মন্তব্য করা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের ঐক্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে বক্তব্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সাংগঠনিক সমালোচনার জবাব শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল উপায়ে দেওয়ার গুরুত্বও প্রাসঙ্গিক।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সংগঠনের ইতিহাস, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুবসমাজের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক দায়িত্ব, দলীয় আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো সামনে আনার সুযোগ তৈরি হয় বলে আয়োজকদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলে নাগেশ্বরী উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ কর্মসূচিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। প্রধান অতিথি সাইফুর রহমান রানার বক্তব্যে দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল না করার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে উঠে আসে।

আরোও পড়ুন – রাজশাহীর শান্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি মাহফুজুর রহমান রিটনের

⇧