টেকনাফে ৩৬০০ পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেট কার জব্দ, নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কাউছার উদ্দিন হৃদয়ঃ

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে নৌবাহিনী। বিশেষ অভিযানে ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত চোরাচালান চক্রের অংশ ছিল। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার কার্যক্রম এবং সীমান্তে মাদক পাচারের ঝুঁকি।

সূত্র জানায়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে টেকনাফে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনীর একটি কন্টিনজেন্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্র টেকনাফ পৌরসভার শাপলা চত্বর এলাকা ব্যবহার করে যানবাহনের মাধ্যমে মাদক পাচারের পরিকল্পনা করছে। এই তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত নৌবাহিনী এলাকায় নজরদারি বাড়ায় এবং অভিযান পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নিশ্চিত হয় যে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যেখানে বারবার টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার ঘটনার মতো ঘটনা ঘটছে।

পরবর্তীতে নৌবাহিনী টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল এলাকায় একটি চেকপোস্ট স্থাপন করে। সেখানে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে একটি সন্দেহজনক প্রাইভেট কার (করোলা এক্স, চট্টমেট্রো-গ-১১-৭৮১৬) থামিয়ে বিস্তারিত তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে গাড়িটির গ্যাস সিলিন্ডারের পেছনে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার কার্যক্রম এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করছে। বিশেষ করে টেকনাফ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা আধুনিক কৌশলে মাদক লুকিয়ে পরিবহন করছে। কখনো গাড়ির গোপন অংশে, আবার কখনো বৈধ পণ্যের আড়ালে এসব মাদক পাচার করা হচ্ছে। তবে নৌবাহিনীর নিয়মিত অভিযান এসব অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক অভিযানে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার আবারও প্রমাণ করেছে যে অভিযানগুলো কার্যকর হচ্ছে।

নৌবাহিনী আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা উদ্ধার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তাদের মতে, টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মাদক চক্রগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে।

পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং জব্দকৃত প্রাইভেট কার আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলে পুরো চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। সীমান্তে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, টেকনাফ সীমান্তে মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে হলে শুধু অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগও প্রয়োজন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পারলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। নৌবাহিনীর এই সফল অভিযানকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অভিযান প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার কার্যক্রম ধারাবাহিক হলে দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা মনে করছেন।

আরোও পড়ুন – কক্সবাজারে নাফ নদীতে অভিযান: ৭ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২

টেকনাফে ৩৬০০ পিস ইয়াবাসহ প্রাইভেট কার জব্দ, নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কাউছার উদ্দিন হৃদয়ঃ

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে নৌবাহিনী। বিশেষ অভিযানে ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত চোরাচালান চক্রের অংশ ছিল। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার কার্যক্রম এবং সীমান্তে মাদক পাচারের ঝুঁকি।

সূত্র জানায়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে টেকনাফে মোতায়েনকৃত নৌবাহিনীর একটি কন্টিনজেন্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্র টেকনাফ পৌরসভার শাপলা চত্বর এলাকা ব্যবহার করে যানবাহনের মাধ্যমে মাদক পাচারের পরিকল্পনা করছে। এই তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত নৌবাহিনী এলাকায় নজরদারি বাড়ায় এবং অভিযান পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নিশ্চিত হয় যে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচারের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যেখানে বারবার টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার ঘটনার মতো ঘটনা ঘটছে।

পরবর্তীতে নৌবাহিনী টেকনাফ সদর ইউনিয়নের লেঙ্গুরবিল এলাকায় একটি চেকপোস্ট স্থাপন করে। সেখানে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে একটি সন্দেহজনক প্রাইভেট কার (করোলা এক্স, চট্টমেট্রো-গ-১১-৭৮১৬) থামিয়ে বিস্তারিত তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে গাড়িটির গ্যাস সিলিন্ডারের পেছনে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার কার্যক্রম এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করছে। বিশেষ করে টেকনাফ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা আধুনিক কৌশলে মাদক লুকিয়ে পরিবহন করছে। কখনো গাড়ির গোপন অংশে, আবার কখনো বৈধ পণ্যের আড়ালে এসব মাদক পাচার করা হচ্ছে। তবে নৌবাহিনীর নিয়মিত অভিযান এসব অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক অভিযানে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার আবারও প্রমাণ করেছে যে অভিযানগুলো কার্যকর হচ্ছে।

নৌবাহিনী আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা উদ্ধার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তাদের মতে, টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মাদক চক্রগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে।

পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত ৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং জব্দকৃত প্রাইভেট কার আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলে পুরো চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। সীমান্তে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, টেকনাফ সীমান্তে মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে হলে শুধু অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগও প্রয়োজন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পারলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। নৌবাহিনীর এই সফল অভিযানকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অভিযান প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধার কার্যক্রম ধারাবাহিক হলে দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা মনে করছেন।

আরোও পড়ুন – কক্সবাজারে নাফ নদীতে অভিযান: ৭ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ২