লালমনিরহাটে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে মানুষ

মোঃ জামিরুল হক সুজন,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

তীব্র গরম, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটে ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত একই অবস্থা বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনে ও রাতে মিলিয়ে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। বিশেষ করে পল্লি বিদ্যুৎ এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ। এই অবস্থার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্রমজীবী মানুষ। ঘরের ভেতরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে অবস্থান করছেন। তবে বাইরে মশার উপদ্রব এবং অসহনীয় গরমের কারণে সেখানেও স্বস্তি নেই। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং নানা ধরনের রোগের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো কখনো গভীর রাতেও হঠাৎ লোডশেডিং শুরু হচ্ছে। এতে ঘুম ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই লালমনিরহাটে লোডশেডিং সংকট হিসেবে উল্লেখ করছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপরও এই পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষা চলমান থাকায় পড়াশোনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না এবং গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরীক্ষার হলে পর্যাপ্ত স্বস্তি না থাকায় শিক্ষার্থীরা অস্বস্তিতে পড়ছে। অভিভাবকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং তাদের মানসিক চাপও বাড়বে।

ব্যবসায়ীদের অবস্থাও একইভাবে সংকটপূর্ণ। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাটে ক্রেতা কমে গেছে এবং ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, ফ্রিজিং পণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং বিক্রি কমে যাচ্ছে। সন্ধ্যার আগেই দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে অনেককে। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন রাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে, ফলে ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়ির বাইরে রাত কাটাচ্ছেন। তবে সেখানে মশার উপদ্রব এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। পানির সংকট, মোবাইল চার্জ না থাকা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন সমস্যাও যুক্ত হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সামাজিকভাবেও মানুষের মধ্যে চাপ বাড়ছে। ঘুমের অভাবে ক্লান্তি, বিরক্তি এবং মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, শুধুমাত্র সাময়িক সমাধান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

সব মিলিয়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে লালমনিরহাটের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা এবং সাধারণ জীবন সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

আরোও পড়ুন – মোরেলগঞ্জে-শরণখোলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থীরা: জনজীবনে চরম ভোগান্তি

লালমনিরহাটে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে মানুষ

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

মোঃ জামিরুল হক সুজন,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ

তীব্র গরম, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাটে ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত একই অবস্থা বিরাজ করছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনে ও রাতে মিলিয়ে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। বিশেষ করে পল্লি বিদ্যুৎ এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ। এই অবস্থার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্রমজীবী মানুষ। ঘরের ভেতরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে অবস্থান করছেন। তবে বাইরে মশার উপদ্রব এবং অসহনীয় গরমের কারণে সেখানেও স্বস্তি নেই। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং নানা ধরনের রোগের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো কখনো গভীর রাতেও হঠাৎ লোডশেডিং শুরু হচ্ছে। এতে ঘুম ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই লালমনিরহাটে লোডশেডিং সংকট হিসেবে উল্লেখ করছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপরও এই পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষা চলমান থাকায় পড়াশোনায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না এবং গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। পরীক্ষার হলে পর্যাপ্ত স্বস্তি না থাকায় শিক্ষার্থীরা অস্বস্তিতে পড়ছে। অভিভাবকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং তাদের মানসিক চাপও বাড়বে।

ব্যবসায়ীদের অবস্থাও একইভাবে সংকটপূর্ণ। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাটে ক্রেতা কমে গেছে এবং ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, ফ্রিজিং পণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং বিক্রি কমে যাচ্ছে। সন্ধ্যার আগেই দোকান বন্ধ করতে হচ্ছে অনেককে। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন রাতে। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে, ফলে ঘুমানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়ির বাইরে রাত কাটাচ্ছেন। তবে সেখানে মশার উপদ্রব এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। পানির সংকট, মোবাইল চার্জ না থাকা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন সমস্যাও যুক্ত হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সামাজিকভাবেও মানুষের মধ্যে চাপ বাড়ছে। ঘুমের অভাবে ক্লান্তি, বিরক্তি এবং মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, শুধুমাত্র সাময়িক সমাধান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

সব মিলিয়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে লালমনিরহাটের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা এবং সাধারণ জীবন সব ক্ষেত্রেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

আরোও পড়ুন – মোরেলগঞ্জে-শরণখোলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থীরা: জনজীবনে চরম ভোগান্তি