ঝিনাইদহ মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি, বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে আকস্মিক মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি হয়ে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার এসবিকে ইউনিয়ন, ফতেপুর ইউনিয়ন ও আজমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এ শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। কয়েক মিনিটের প্রবল শিলার আঘাতে পেকে ওঠা বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অনেক জমিতে ধানের শীষ ঝরে গেছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এতে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করা কৃষকদের মুখে নেমে এসেছে হতাশার ছাপ।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বর্তমানে বোরো ধান কাটার উপযুক্ত সময় চলছে। এমন সময়ে মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। যেসব জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছিল, সেখানে কাটা ধানও ভিজে গেছে। আবার অনেক জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ধান শিলার আঘাতে নুয়ে পড়েছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ধান সংগ্রহ করতেও বাড়তি খরচ হবে। কৃষকরা বলছেন, সার, সেচ ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগে থেকেই তারা চাপের মধ্যে ছিলেন।

শুধু বোরো ধান নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টা, পাট ও মৌসুমি সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কোমল সবজি গাছের পাতা ছিঁড়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেতের চারা নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এবারের মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি ছিল অস্বাভাবিক মাত্রার। অনেকে বহু বছর পর এত বড় আকারের শিলা পড়তে দেখেছেন। শিলার আঘাতে বাড়ির টিনের চালা, ফলগাছ ও ছোট গাছপালারও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসবিকে ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, বছরের সব সঞ্চয় দিয়ে জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু কয়েক মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে সব হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে। একই ধরনের কথা জানিয়েছেন ফতেপুর ও আজমপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকজন কৃষক। তাদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। কারণ এ সময় ফসল প্রায় ঘরে তোলার প্রস্তুতিতে থাকে। ফলে সামান্য ক্ষতিও বড় আর্থিক লোকসানে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে অনিয়মিত বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে। তাই কৃষকদের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও কৃষি বীমা চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলার সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, আকস্মিক মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি কৃষকের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। অনেক পরিবার কৃষি আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের দ্রুত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরোও পড়ুন – গাজীপুরে ঝড়ো বৃষ্টি: সারারাত ভারি বর্ষণে স্বস্তি ফিরল জনজীবনে

ঝিনাইদহ মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি, বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

এপ্রিল ২৭, ২০২৬

সালেকুজ্জামান শামীম, মহেশপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে আকস্মিক মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি হয়ে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার এসবিকে ইউনিয়ন, ফতেপুর ইউনিয়ন ও আজমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এ শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। কয়েক মিনিটের প্রবল শিলার আঘাতে পেকে ওঠা বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অনেক জমিতে ধানের শীষ ঝরে গেছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এতে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করা কৃষকদের মুখে নেমে এসেছে হতাশার ছাপ।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বর্তমানে বোরো ধান কাটার উপযুক্ত সময় চলছে। এমন সময়ে মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। যেসব জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছিল, সেখানে কাটা ধানও ভিজে গেছে। আবার অনেক জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা ধান শিলার আঘাতে নুয়ে পড়েছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ধান সংগ্রহ করতেও বাড়তি খরচ হবে। কৃষকরা বলছেন, সার, সেচ ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগে থেকেই তারা চাপের মধ্যে ছিলেন।

শুধু বোরো ধান নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টা, পাট ও মৌসুমি সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কোমল সবজি গাছের পাতা ছিঁড়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেতের চারা নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এবারের মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি ছিল অস্বাভাবিক মাত্রার। অনেকে বহু বছর পর এত বড় আকারের শিলা পড়তে দেখেছেন। শিলার আঘাতে বাড়ির টিনের চালা, ফলগাছ ও ছোট গাছপালারও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসবিকে ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, বছরের সব সঞ্চয় দিয়ে জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু কয়েক মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে সব হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে। একই ধরনের কথা জানিয়েছেন ফতেপুর ও আজমপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকজন কৃষক। তাদের দাবি, দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। কারণ এ সময় ফসল প্রায় ঘরে তোলার প্রস্তুতিতে থাকে। ফলে সামান্য ক্ষতিও বড় আর্থিক লোকসানে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে অনিয়মিত বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে। তাই কৃষকদের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও কৃষি বীমা চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলার সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, আকস্মিক মহেশপুরে শিলাবৃষ্টি কৃষকের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। অনেক পরিবার কৃষি আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের দ্রুত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরোও পড়ুন – গাজীপুরে ঝড়ো বৃষ্টি: সারারাত ভারি বর্ষণে স্বস্তি ফিরল জনজীবনে