মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কবাতি অকেজো থাকায় জনমনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার পর শহরের প্রধান সড়ক, উপসড়ক ও অলিগলির বড় অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে সাধারণ পথচারী, নারী শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুরি-ছিনতাই, মাদকসেবীদের আনাগোনা এবং বখাটেদের উৎপাত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার সড়কবাতি স্থাপন করা আছে। তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতি দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও বাল্ব নষ্ট, কোথাও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, আবার কোথাও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক এলাকায় মাসের পর মাস মেরামত না হওয়ায় সড়কবাতি অকেজো সমস্যাটি এখন বড় নাগরিক ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বাজার এলাকা, স্কুলপথ ও কারখানা সংলগ্ন সড়কগুলোতে দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন কিছু অংশ ছাড়া অধিকাংশ ভেতরের সড়কে পর্যাপ্ত আলো নেই। ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আবদুল হালিম জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে তাদের গলির পাঁচটি বাতির একটিও জ্বলে না। অন্ধকারের কারণে শিশু ও নারীরা রাতে বাইরে বের হতে ভয় পান। সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি বাইসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কবাতি অকেজো থাকায় অপরাধীরা সহজেই সুযোগ নিচ্ছে।
চন্দ্রা ত্রি-মোড় এলাকার ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, রাত আটটার পর দোকান খোলা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। গত সপ্তাহে তার দোকানের সামনে থেকে এক নারীর ব্যাগ ছিনতাই হয়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মল্লিকা জামান জানান, সন্ধ্যার পর অলিগলিতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে পরিবার নিয়ে চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মজীবী নারীরাও রাতের শিফট শেষে বাসায় ফিরতে আতঙ্কে থাকেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কবাতি অকেজো থাকায় শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
কালিয়াকৈর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোসাম্মৎ লাকি বলেন, গত দুই বছর বড় ধরনের টেন্ডার না হওয়ায় অনেক বাতি নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, অতীতেও মেরামতের কথা বলা হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তাই এবারও নাগরিকরা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুল বলেন, পর্যাপ্ত আলো থাকলে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসে। পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে, তবে প্রতিটি গলিতে সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে পৌরবাসীরা সাত দিনের মধ্যে বাতি সচল না হলে পৌরকর বন্ধসহ গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাদের দাবি, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সড়কবাতি অকেজো সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
আরোও পড়ুন – ফুটপাত ফিরছে পথচারীর দখলে: নলছিটিতে বড় অভিযান
সড়কবাতি অকেজো: চুরি-ছিনতাই আতঙ্কে কালিয়াকৈর পৌরবাসী
মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কবাতি অকেজো থাকায় জনমনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার পর শহরের প্রধান সড়ক, উপসড়ক ও অলিগলির বড় অংশ অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে সাধারণ পথচারী, নারী শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুরি-ছিনতাই, মাদকসেবীদের আনাগোনা এবং বখাটেদের উৎপাত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডজুড়ে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার সড়কবাতি স্থাপন করা আছে। তবে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাতি দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও বাল্ব নষ্ট, কোথাও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, আবার কোথাও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক এলাকায় মাসের পর মাস মেরামত না হওয়ায় সড়কবাতি অকেজো সমস্যাটি এখন বড় নাগরিক ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বাজার এলাকা, স্কুলপথ ও কারখানা সংলগ্ন সড়কগুলোতে দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন কিছু অংশ ছাড়া অধিকাংশ ভেতরের সড়কে পর্যাপ্ত আলো নেই। ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আবদুল হালিম জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে তাদের গলির পাঁচটি বাতির একটিও জ্বলে না। অন্ধকারের কারণে শিশু ও নারীরা রাতে বাইরে বের হতে ভয় পান। সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি বাইসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কবাতি অকেজো থাকায় অপরাধীরা সহজেই সুযোগ নিচ্ছে।
চন্দ্রা ত্রি-মোড় এলাকার ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, রাত আটটার পর দোকান খোলা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। গত সপ্তাহে তার দোকানের সামনে থেকে এক নারীর ব্যাগ ছিনতাই হয়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মল্লিকা জামান জানান, সন্ধ্যার পর অলিগলিতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে পরিবার নিয়ে চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মজীবী নারীরাও রাতের শিফট শেষে বাসায় ফিরতে আতঙ্কে থাকেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কবাতি অকেজো থাকায় শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
কালিয়াকৈর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোসাম্মৎ লাকি বলেন, গত দুই বছর বড় ধরনের টেন্ডার না হওয়ায় অনেক বাতি নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, অতীতেও মেরামতের কথা বলা হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তাই এবারও নাগরিকরা দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সহিদুল বলেন, পর্যাপ্ত আলো থাকলে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসে। পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে, তবে প্রতিটি গলিতে সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে পৌরবাসীরা সাত দিনের মধ্যে বাতি সচল না হলে পৌরকর বন্ধসহ গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাদের দাবি, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সড়কবাতি অকেজো সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
আরোও পড়ুন – ফুটপাত ফিরছে পথচারীর দখলে: নলছিটিতে বড় অভিযান