আলমগীর হোসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক (কুড়িগ্রাম)
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের মিলনস্থলে ব্রহ্মপুত্র ভাঙন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর গর্জনে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে নদীর পাড় ধসে পড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও জরুরি প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে এলাকার শিশু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। তারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিজেদের স্কুল বাঁচানোর আহ্বান জানায়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ব্রহ্মপুত্র ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরই বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমাদের স্কুলটা যদি নদীতে চলে যায়, আমরা কোথায় পড়ব?” আরেক শিক্ষার্থী রাব্বি জানায়, “আমরা শুধু স্কুলটা বাঁচাতে চাই।” শিশুদের এই আকুতি মানববন্ধনে উপস্থিত সবার মাঝে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
এলাকার প্রবীণ ও সাধারণ মানুষও তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বলেন, “এই ভিটাটুকুই শেষ সম্বল। নদী যদি এটাও নিয়ে যায়, কোথায় যাব?” স্থানীয় কৃষক নওশের আলী জানান, গত কয়েক বছরে কয়েক দফা জমি নদীতে হারিয়েছেন তিনি। এবার বসতঘরও ঝুঁকিতে পড়েছে। অনেকে বলছেন, ব্রহ্মপুত্র ভাঙন শুধু জমি কেড়ে নিচ্ছে না, মানুষের জীবনজীবিকা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে ফেলছে। পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে বারবার স্থানান্তরিত হচ্ছে, এতে বেড়েছে দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা।
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ক্ষতিপূরণ পেলেও বাংলাদেশে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। তিনি দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্র ভাঙন মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, জরুরি প্রতিরোধে এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত কাজ শুরু হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আগেও এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও সময়মতো কাজ শুরু হয়নি। ফলে এবারও তারা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর নাব্যতা সংকট, তীব্র স্রোত, অপরিকল্পিত ড্রেজিং ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলে নদীভাঙন বাড়ছে। তাই শুধু অস্থায়ী জিও ব্যাগ নয়, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প, চরাঞ্চল পুনর্বাসন ও স্কুল-কলেজ সুরক্ষায় আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরোও পড়ুন – সেন্টমার্টিনে পর্যটন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ভাঙন: স্কুল রক্ষায় শিশুদের মানববন্ধন, আতঙ্কে জনপদ
আলমগীর হোসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক (কুড়িগ্রাম)
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ও বুড়াবুড়ী ইউনিয়নের মিলনস্থলে ব্রহ্মপুত্র ভাঙন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর গর্জনে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জলঙ্গার কুটি ও বাবুর চর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে নদীর পাড় ধসে পড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শত শত নারী-পুরুষ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেন। স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও জরুরি প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে এলাকার শিশু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। তারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিজেদের স্কুল বাঁচানোর আহ্বান জানায়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ব্রহ্মপুত্র ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে খুব শিগগিরই বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমাদের স্কুলটা যদি নদীতে চলে যায়, আমরা কোথায় পড়ব?” আরেক শিক্ষার্থী রাব্বি জানায়, “আমরা শুধু স্কুলটা বাঁচাতে চাই।” শিশুদের এই আকুতি মানববন্ধনে উপস্থিত সবার মাঝে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।
এলাকার প্রবীণ ও সাধারণ মানুষও তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বলেন, “এই ভিটাটুকুই শেষ সম্বল। নদী যদি এটাও নিয়ে যায়, কোথায় যাব?” স্থানীয় কৃষক নওশের আলী জানান, গত কয়েক বছরে কয়েক দফা জমি নদীতে হারিয়েছেন তিনি। এবার বসতঘরও ঝুঁকিতে পড়েছে। অনেকে বলছেন, ব্রহ্মপুত্র ভাঙন শুধু জমি কেড়ে নিচ্ছে না, মানুষের জীবনজীবিকা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে ফেলছে। পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে বারবার স্থানান্তরিত হচ্ছে, এতে বেড়েছে দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা।
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ক্ষতিপূরণ পেলেও বাংলাদেশে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। তিনি দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্র ভাঙন মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলার ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, জরুরি প্রতিরোধে এক লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত কাজ শুরু হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আগেও এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও সময়মতো কাজ শুরু হয়নি। ফলে এবারও তারা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর নাব্যতা সংকট, তীব্র স্রোত, অপরিকল্পিত ড্রেজিং ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলে নদীভাঙন বাড়ছে। তাই শুধু অস্থায়ী জিও ব্যাগ নয়, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প, চরাঞ্চল পুনর্বাসন ও স্কুল-কলেজ সুরক্ষায় আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরোও পড়ুন – সেন্টমার্টিনে পর্যটন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন