নাগেশ্বরীতে চাচী ভাতিজার ঘটনা ঘিরে ধর্ষণ মামলা, অভিযুক্ত পলাতক

মোঃ নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায় স্পর্শকাতর চাচী ভাতিজার ঘটনা ঘিরে একটি আলোচিত ধর্ষণ মামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় শাহজালাল ওরফে মন্ডল (২৭) নামের এক যুবককে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন এক নারী (২৪)। অভিযোগ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী সংসারের খরচ চালাতে প্রায়ই ঢাকা, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে পাশের বাড়ির বাসিন্দা শাহজালাল দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে উত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অশোভন আচরণ করতেন বলেও পরিবার দাবি করেছে। এলাকায় চাচী ভাতিজার ঘটনার বিষয়টি আগে থেকেই এলাকার অনেকে জানতেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্ত শাহজালাল ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হওয়ায় সামাজিকভাবে তাদের মধ্যে চাচী-ভাতিজার সম্পর্ক ছিল। সেই পারিবারিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তার চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছিল। তবে পরে চাচী ভাতিজার ঘটনা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন আরও বাড়তে থাকে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৫ এপ্রিল গভীর রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর রাতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, এমন ঘটনার পর সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছেন এবং চাচী ভাতিজার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। লোকলজ্জার কারণে এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারেননি। তবে সর্বশেষ ঘটনার পর তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, দুই পক্ষই আগে বিষয়টি জানিয়েছিল। স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের আলোচনা চলছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন। নাগেশ্বরী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ১ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চলছে। তিনি বলেন, চাচী ভাতিজার ঘটনা নিয়ে পাওয়া অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – নাগেশ্বরীতে পাগল সেজে ভিক্ষা ও মাদকসেবনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

নাগেশ্বরীতে চাচী ভাতিজার ঘটনা ঘিরে ধর্ষণ মামলা, অভিযুক্ত পলাতক

মে ৪, ২০২৬

মোঃ নুর নবী, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায় স্পর্শকাতর চাচী ভাতিজার ঘটনা ঘিরে একটি আলোচিত ধর্ষণ মামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় শাহজালাল ওরফে মন্ডল (২৭) নামের এক যুবককে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন এক নারী (২৪)। অভিযোগ প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী সংসারের খরচ চালাতে প্রায়ই ঢাকা, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান। স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে পাশের বাড়ির বাসিন্দা শাহজালাল দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে উত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অশোভন আচরণ করতেন বলেও পরিবার দাবি করেছে। এলাকায় চাচী ভাতিজার ঘটনার বিষয়টি আগে থেকেই এলাকার অনেকে জানতেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্ত শাহজালাল ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হওয়ায় সামাজিকভাবে তাদের মধ্যে চাচী-ভাতিজার সম্পর্ক ছিল। সেই পারিবারিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তার চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছিল। তবে পরে চাচী ভাতিজার ঘটনা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন আরও বাড়তে থাকে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৫ এপ্রিল গভীর রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর রাতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, এমন ঘটনার পর সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছেন এবং চাচী ভাতিজার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। লোকলজ্জার কারণে এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারেননি। তবে সর্বশেষ ঘটনার পর তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, দুই পক্ষই আগে বিষয়টি জানিয়েছিল। স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের আলোচনা চলছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন। নাগেশ্বরী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইদ্রিস আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ১ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চলছে। তিনি বলেন, চাচী ভাতিজার ঘটনা নিয়ে পাওয়া অভিযোগ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – নাগেশ্বরীতে পাগল সেজে ভিক্ষা ও মাদকসেবনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি