বিএনপির মামলা প্রত্যাহার, জামায়াতের ক্ষেত্রে নীরবতা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে সরকার?

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও বাস্তব চিত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির মামলা প্রত্যাহার নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের তথ্য দিয়েছে। তবে এসব মামলার বড় অংশই বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তদের দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকায় নির্দিষ্টভাবে কোন দলের কতজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তার সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপি এসব মামলাকে “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক” বলে দাবি করেছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সংখ্যা সম্পর্কেও সরকারের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে যেখানে বিএনপির মামলা প্রত্যাহার আলোচনায় এসেছে, সেখানে জামায়াতের ক্ষেত্রে একই ধরনের উদ্যোগ কেন দেখা যাচ্ছে না?
সরকার জানিয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের জন্য জেলা পর্যায়ে চার সদস্যের কমিটি এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছয় সদস্যের কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটি মামলার নথি, এজাহার, চার্জশিট এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এই প্রক্রিয়ায় সমতা নিশ্চিত হয়নি। বিএনপির মামলা প্রত্যাহার নিয়ে হাজার হাজার মামলার খবর এলেও জামায়াতের একটি মামলাও প্রত্যাহারের নজির পাওয়া যায়নি। এতে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তাদের মতে, যদি সরকার সত্যিই রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করে থাকে, তাহলে সব দলের ক্ষেত্রেই সমান মানদণ্ড প্রয়োগ করা প্রয়োজন। অন্যথায় এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হতে পারে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জামায়াত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিএনপির মামলা প্রত্যাহার ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরোও পড়ুন – অভিন্ন স্কুল ড্রেস চালু: প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ব্যাগ-ড্রেস দেবে সরকার

বিএনপির মামলা প্রত্যাহার, জামায়াতের ক্ষেত্রে নীরবতা ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে সরকার?

মে ৪, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও বাস্তব চিত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির মামলা প্রত্যাহার নিয়ে সরকার ইতোমধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের তথ্য দিয়েছে। তবে এসব মামলার বড় অংশই বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তদের দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকায় নির্দিষ্টভাবে কোন দলের কতজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তার সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপি এসব মামলাকে “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক” বলে দাবি করেছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সংখ্যা সম্পর্কেও সরকারের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে যেখানে বিএনপির মামলা প্রত্যাহার আলোচনায় এসেছে, সেখানে জামায়াতের ক্ষেত্রে একই ধরনের উদ্যোগ কেন দেখা যাচ্ছে না?
সরকার জানিয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের জন্য জেলা পর্যায়ে চার সদস্যের কমিটি এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছয় সদস্যের কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটি মামলার নথি, এজাহার, চার্জশিট এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে এই প্রক্রিয়ায় সমতা নিশ্চিত হয়নি। বিএনপির মামলা প্রত্যাহার নিয়ে হাজার হাজার মামলার খবর এলেও জামায়াতের একটি মামলাও প্রত্যাহারের নজির পাওয়া যায়নি। এতে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তাদের মতে, যদি সরকার সত্যিই রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহার করে থাকে, তাহলে সব দলের ক্ষেত্রেই সমান মানদণ্ড প্রয়োগ করা প্রয়োজন। অন্যথায় এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হতে পারে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জামায়াত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিএনপির মামলা প্রত্যাহার ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরোও পড়ুন – অভিন্ন স্কুল ড্রেস চালু: প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ব্যাগ-ড্রেস দেবে সরকার