সারোয়ার আলম রিজন, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি (হাবিপ্রবি)
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সহকারী প্রক্টর ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী বহিষ্কার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মোট ৬৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সাময়িক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ জুলাই) আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার ভিডিওচিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেই শিক্ষার্থী বহিষ্কার-এর এই সিদ্ধান্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্তব্যরত অবস্থায় সহকারী প্রক্টর মো. মমিনুল ইসলামের ওপর সরাসরি হামলার অভিযোগে ৬ জন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন— এআইই বিভাগের মো. নাঈমুর রহমান (দুর্জয়), অর্থনীতি বিভাগের সাকির মাহমুদ, ইসিই বিভাগের মো. সৌরভ আহমেদ, এফপিই বিভাগের মো. আসাদুজ্জামান সাগর, ইংরেজি বিভাগের আসিফ হোসেন এবং অ্যাকাউন্টিং বিভাগের তাসরিয়াফ ইসলাম প্রান্তিক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর এবং অস্ত্র হাতে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য (দুই সেমিস্টার) একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পাবেন না। প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে সহিংসতা নিরুৎসাহিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তও শিক্ষার্থী বহিষ্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে আরও ৬ জন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য (এক সেমিস্টার) একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আরও ৮ জন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার, লিখিত সতর্কীকরণ এবং ২ হাজার টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অভিযোগ পৃথকভাবে মূল্যায়নের পর শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা লিখিতভাবে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবেন। এরপর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন – হাবিপ্রবিতে দিনব্যাপী ‘Axiom Camp 1.0’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
হাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী বহিষ্কার: হামলার ঘটনায় ৬৬ জনের শাস্তি, ৬ জন আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ
সারোয়ার আলম রিজন, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি (হাবিপ্রবি)
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সহকারী প্রক্টর ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী বহিষ্কার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মোট ৬৬ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সাময়িক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১ জুলাই) আবাসন ও শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৭তম সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার ভিডিওচিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেই শিক্ষার্থী বহিষ্কার-এর এই সিদ্ধান্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্তব্যরত অবস্থায় সহকারী প্রক্টর মো. মমিনুল ইসলামের ওপর সরাসরি হামলার অভিযোগে ৬ জন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন— এআইই বিভাগের মো. নাঈমুর রহমান (দুর্জয়), অর্থনীতি বিভাগের সাকির মাহমুদ, ইসিই বিভাগের মো. সৌরভ আহমেদ, এফপিই বিভাগের মো. আসাদুজ্জামান সাগর, ইংরেজি বিভাগের আসিফ হোসেন এবং অ্যাকাউন্টিং বিভাগের তাসরিয়াফ ইসলাম প্রান্তিক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর এবং অস্ত্র হাতে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য (দুই সেমিস্টার) একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পাবেন না। প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে সহিংসতা নিরুৎসাহিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তও শিক্ষার্থী বহিষ্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, ক্যাম্পাসে অস্ত্র প্রদর্শন করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে আরও ৬ জন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য (এক সেমিস্টার) একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আরও ৮ জন শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার, লিখিত সতর্কীকরণ এবং ২ হাজার টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অভিযোগ পৃথকভাবে মূল্যায়নের পর শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নওশের ওয়ান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা লিখিতভাবে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারবেন। এরপর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশা করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
আরোও পড়ুন – হাবিপ্রবিতে দিনব্যাপী ‘Axiom Camp 1.0’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত