মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহী, ৫ জুলাই ২০২৬: সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেছেন, রাজশাহীর শিক্ষা দেশের উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। এ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। রোববার সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে এমপি মাহমুদা হাবীবা বলেন, রাজশাহীর সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। কারণ তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু এই অঞ্চলে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে। তিনি বলেন, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজশাহীর শিক্ষা আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং আগামী কয়েক বছরে শিক্ষায় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর শিক্ষা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এমপি মাহমুদা হাবীবা বলেন, বর্তমানে শিক্ষাখাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করবেন।
তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে। প্রতিটি টাকা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় রাজশাহী মহানগরীর ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে মোট ৪০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন এমপি মাহমুদা হাবীবা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই বরাদ্দকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপচয়ের সুযোগ থাকবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল হাসান, ডিআরআরও আব্দুল হাই সরকার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আরোও পড়ুন – সরকার জনগণের প্রতি খুবই আন্তরিক : হুমায়ুন কবির
রাজশাহীর শিক্ষা এগিয়ে নিতে সর্বাধিক কাজ করব: এমপি মাহমুদা হাবীবা
মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজশাহী, ৫ জুলাই ২০২৬: সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেছেন, রাজশাহীর শিক্ষা দেশের উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। এ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। রোববার সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে এমপি মাহমুদা হাবীবা বলেন, রাজশাহীর সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। কারণ তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু এই অঞ্চলে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে। তিনি বলেন, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজশাহীর শিক্ষা আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং আগামী কয়েক বছরে শিক্ষায় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর শিক্ষা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এমপি মাহমুদা হাবীবা বলেন, বর্তমানে শিক্ষাখাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রম থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করবেন।
তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। তাই বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে। প্রতিটি টাকা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় রাজশাহী মহানগরীর ২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে মোট ৪০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন এমপি মাহমুদা হাবীবা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই বরাদ্দকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ অর্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপচয়ের সুযোগ থাকবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল হাসান, ডিআরআরও আব্দুল হাই সরকার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আরোও পড়ুন – সরকার জনগণের প্রতি খুবই আন্তরিক : হুমায়ুন কবির